উপনির্বাচনের দিন নন্দীগ্রামের গড়চক্রবেড়িয়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়াল। খাঁ পাড়ার কয়েকজন সংখ্যালঘু মহিলা অভিযোগ করেন, তাঁদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় জড়ো হন বেশ কয়েকজন মহিলা। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীচরণপুর এলাকার গড়চক্রবেড়িয়া ৭ নম্বর জলপাই গ্রামের ২৪১ ও ২৪২ নম্বর বুথকে কেন্দ্র করে সমস্যার সূত্রপাত। কয়েকজন মহিলার অভিযোগ, বাইরে থেকে আসা কয়েকজন তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করেছেন। ভোট দিতে যাওয়ার সময় তাঁদের আটকে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তাঁরা।
অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন মিলন প্রধান। তাঁকে সামনে পেয়ে মহিলারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরিস্থিতি সামলাতে সেখানে পৌঁছয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিযোগ, একসময় কয়েকজন মহিলা নিরাপত্তারক্ষীদের দিকে লাঠি নিয়ে এগিয়ে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও লাঠি উঁচিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
কংগ্রেস প্রার্থীর দাবি, পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের উপর লাঠি চালিয়েছে। তাঁরও আঘাত লেগেছে বলে দাবি করেন তিনি। মিলন প্রধানের অভিযোগ, নন্দীগ্রামে অবাধে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নেই। বাইরে থেকে লোক এনে ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ভোটে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পরে কয়েকজন বিজেপি নেতার নাম করে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর কথা বলেন কংগ্রেস প্রার্থী। তাঁর বক্তব্য, গোটা ঘটনার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে ওই মুহূর্তে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
শুধু গড়চক্রবেড়িয়াই নয়, ভোটের শুরু থেকেই নন্দীগ্রামের আরও কয়েকটি এলাকায় অশান্তির অভিযোগ সামনে আসে। সোনাচূড়া ও জালপাই এলাকাতেও রাজনৈতিক উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়। কংগ্রেসের অভিযোগ, তাদের কয়েকজন এজেন্টকে বুথে বসতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং কোথাও কোথাও তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছে।
সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ সোনাচূড়া গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে যান মিলন প্রধান। সেখানে তাঁকে ঘিরে একদল মানুষ বিক্ষোভ দেখান বলে অভিযোগ। তাঁকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগানও দেওয়া হয়। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। ভোটের দিন একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় নন্দীগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।


