উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতেই নন্দীগ্রামের সুভানি চক এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। কয়েকজন মহিলা ভোটার অভিযোগ করেন, বুথে যাওয়ার আগে তাঁদের কাছ থেকে ভোটার স্লিপ নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভোট না দিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। এই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের তরফে নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন মহিলা সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেন, ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি তাঁদের থামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর হাতে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এক মহিলা জানান, তাঁর স্লিপ নিয়ে নেওয়ার পর তিনি আর ভোট দিতে পারেননি। একই ধরনের অভিযোগ আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও পাওয়া গিয়েছে। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
নন্দীগ্রামে ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও অভিযোগ তুলেছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাঁর দাবি, কয়েকটি বুথে দলের পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সোনাচূড়া-সহ একাধিক জায়গায় ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কয়েকটি বুথে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে। কোথাও তাঁদের বুথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও প্রকৃত ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার দাবি উঠেছে। ভেড়ুতিয়া এলাকার কয়েকটি বুথ এবং আমদাবাদ-২ অঞ্চলের কামালপুরের একটি বুথ নিয়েও অভিযোগ জানানো হয়েছে। দলের দাবি, বিষয়গুলি লিখিত ভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগ ঘিরে বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা বক্তব্যও এসেছে। বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাজ করতে হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীও এলাকায় রয়েছে বলে তিনি জানান। কংগ্রেসের অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রচেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন।
নন্দীগ্রামে ভোটকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় নজর রয়েছে নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের দিকে। কোথায় সত্যিই ভোটারদের বাধা দেওয়া হয়েছে এবং কোথায় রাজনৈতিক অভিযোগকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে, তা তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে। আপাতত অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই চলছে ভোটগ্রহণ।


