সরকারি নথিতে ‘আন্দোলনজীবী’ শব্দের ব্যবহার কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। শুক্রবার সাংবাদিক সত্যম ভার্মার মামলার শুনানিতে এই বিষয়ে জানতে চান বিচারপতি অতুল শ্রীধরণ। মামলাটি ঘিরে আদালতে প্রশাসনের ভূমিকা এবং সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় শ্রমিকদের বিক্ষোভের ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সাংবাদিক সত্যম ভার্মার বিরুদ্ধে। এরপর গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলাশাসক মেধা রূপম তাঁর গ্রেপ্তারির নির্দেশ দেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন বা এনএসএ-তে মামলা করা হয়।
নিজের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হন সত্যম ভার্মা। তাঁর আবেদনে জেলাশাসকের গ্রেপ্তারির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। সেই মামলার শুনানিতেই সরকারি নথিতে ‘আন্দোলনজীবী’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিচারপতি অতুল শ্রীধরণ জানতে চান, সরকারি নথিতে এই শব্দবন্ধ কোথা থেকে এসেছে এবং কী কারণে তা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে এমন শব্দ ব্যবহারের ভিত্তি কী, তা নিয়ে আদালতের প্রশ্ন মামলাটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
এই মামলায় যাঁর নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, সেই মেধা রূপম গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলাশাসক। তিনি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা। তবে মামলার মূল বিষয় হল, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং তার আইনগত ভিত্তি।
জাতীয় নিরাপত্তা আইনের মতো কঠোর আইনে মামলা হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এই আইনে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি শর্ত ও কারণ থাকা প্রয়োজন। তাই সত্যম ভার্মার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ যথাযথ ছিল কি না, তা আদালতের বিবেচনার বিষয়।
শুক্রবার বিচারপতি অতুল শ্রীধরণ এবং বিচারপতি আঁচল শ্রীবাস্তবের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত রায় ঘোষণা স্থগিত রাখে।
ফলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জেলাশাসকের নির্দেশ বহাল থাকবে, নাকি তাতে কোনও পরিবর্তন আসবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি নথিতে ‘আন্দোলনজীবী’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিচারপতির প্রশ্ন প্রশাসনিক কাজকর্মের ভাষা এবং তার যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সুযোগ তৈরি করেছে।


