আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) একাধিক কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দলের দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মীদের দিল্লি যাওয়া আটকাতেই পুলিশ এই পদক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ দলের নেতৃত্বের।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ নিউ টাউনের একটি হোটেল থেকে শেখ আবদুল হাফিজ-সহ পাঁচ জনকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ। অন্য চার জন হলেন আমিনা খান, সানা রহমান, সানন্দা ঘোষ এবং হাবিবুল ইসলাম। তাঁরা দিল্লি যাওয়ার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন। দলের দাবি, পুলিশ তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং মারধর করে। আটক অবস্থায় তাঁদের কী কারণে আটক করা হয়েছে, তা-ও জানানো হয়নি বলে অভিযোগ।
পরে রাতে আবদুল হাফিজ সমাজমাধ্যমে কয়েকটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেন। সেখানে কয়েক জন মহিলা কর্মীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ তাঁদের জোর করে এমন একটি লিখিত বয়ান দিতে বাধ্য করেছে, যাতে বলা হয় যে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়নি, এমনই অভিযোগ হাফিজের। তাঁর দাবি, ১৩ ঘণ্টারও বেশি সময় আটক থাকার পর রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তাঁরা মুক্তি পান। এরপর তাঁরা শারীরিক পরীক্ষার জন্য সল্টলেকের একটি হাসপাতালে যান।
সিজেপির পূর্বাঞ্চলের সমন্বয়কারী প্রকৃতি সাহু জানিয়েছেন, শুধু নিউ টাউন নয়, হাওড়া, মালদহ, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকাতেও দলের কর্মীদের আটকানো হয়েছে বলে অভিযোগ। কোথাও কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে দিল্লি যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করতে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি দলের।
হাওড়ায় শেখ সিরাজ, রণজিৎ কোলে এবং সালাউদ্দিন নামে তিন কর্মীকেও বৃহস্পতিবার আটক করা হয়। রাত সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দলের তরফে জানানো হয়েছে। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। বিধাননগর উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক কিশোর সিনহা চৌধুরী জানিয়েছেন, ইকো পার্ক থানার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। তাঁর দাবি, তাঁর থানায় কোনও মারধরের ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, গত অগস্টে বাঁকুড়ায় আবদুল হাফিজের বাবা শেখ মহম্মদ মফিকের মৃত্যুকে ঘিরেও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনায় বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছিলেন হাফিজ। তবে সেই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
১০ অক্টোবরের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করতে নারাজ সিজেপি নেতৃত্ব। দলের দাবি, বাধা সত্ত্বেও অন্য উপায়ে দিল্লি পৌঁছনোর চেষ্টা করবেন কর্মীরা।


