প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পড়ুয়াদের উদ্দেশে প্রকাশিত ক্ষমার বার্তাকে কেন্দ্র করে ফের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার রাতে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দাবি করেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
ভিডিও বার্তায় দীপকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার যে ভিডিওতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ক্ষমা করার কথা বলেছেন, তার পর তিনি আশা করেছিলেন আরও একটি ভিডিও প্রকাশ করা হবে। তাঁর কথায়, “আমার ধারণা, প্রধানমন্ত্রী আর একটি ভিডিও প্রকাশ করবেন, যেখানে ২০ জুলাইয়ের লাঠিচার্জের জন্য ক্ষমা চাইবেন।”
সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা আরও অভিযোগ করেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় ১২ বছরের এক প্রতিবাদী শিশুকেও পুলিশ মারধর করেছে। পাশাপাশি আন্দোলনকারী মহিলাদের উপর শারীরিক নির্যাতন এবং তাঁদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এই সমস্ত ঘটনার জন্য পুলিশের ভূমিকার দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমা চাওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, নিট দুর্নীতির প্রতিবাদে দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলা আন্দোলনের আবহে গত এক সপ্তাহে একাধিক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় যাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন, তাঁদের তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ওই বার্তার পরই প্রতিক্রিয়া জানান অভিজিৎ দীপকে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “শুধু ভিডিওতে ক্ষমা করলেই হবে, নাকি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলিও প্রত্যাহার করা হবে?”
এদিকে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকার এবং সিজেপি-র মধ্যে মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, যাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে সিজেপি জানিয়েছে, এই অবস্থান বদল না হলে তারা ফের বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারে। তবে সিজেপি-র তরফে তোলা পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগগুলির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

