দ্বাদশের নম্বর দেখেই ডাক্তারিতে ভর্তি!ঐতিহাসিক বিল পাশ তামিলনাড়ু বিধানসভায়

 

নিউজ ডেস্ক : ডাক্তারি পড়ার জন্য তামিলনাড়ুর ছাত্র-ছাত্রীদের আর নিট পরীক্ষায় নাও বসতে হতে পারে। ওই কোর্সে ভর্তির জন্য এই সর্বভারতীয় পরীক্ষা থেকে নিজেদের নাম সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তামিলনাড়ু। সোমবার দক্ষিণের এই রাজ্যটি এ সংক্রান্ত একটি বিল পাশ করিয়েছে। নতুন বিল অনুযায়ী ছাত্র ছাত্রীরা তাঁদের দ্বাদশের ফাইনাল পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতেই চিকিৎসা নিয়ে কলেজে ভর্তি হতে পারবেন।

বিলটির নাম ‘তামিলনাড়ু অ্যাডমিশন টু মেডিক্যাল ডিগ্রি কলেজ বিল’। দেশে চিকিৎসায় ভর্তির একমাত্র পরীক্ষা নিট-এর মাধ্যমে যাতে রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের মান নির্ণয় না করা হয়, তা নিশ্চিত করাই বিলটির লক্ষ্য। তবে চিকিৎসায় ভর্তি নিয়ে কেন্দ্রের যে নীতি, এই বিল তার সম্পূর্ণ বিরোধী। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যদি অনুমোদন দেন তবেই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।

 

মুখ্যমন্ত্রী গত ৫ জুন NEET-এর প্রভাব খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে রাজনের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিলেন। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে স্ট‌্যালিন এদিন তাঁর রাজ্যের পরীক্ষার্থীদের নিট পরীক্ষা থেকে স্থায়ীভাবে অব‌্যাহতি দেওয়ার জন‌্য একটি বিল পেশ করেন। তামিল মাধ‌্যমের পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে প্রস্তাবিত বিলটিতে বলা হয়েছে, দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে স্নাতক স্তরে মেডিসিন, ভারতীয় মেডিসিন, দন্ত বিষয়ক ও হোমিওপ‌্যাথি বিভাগে ভর্তি করা হবে। নিট বাতিলের দাবিতে অন‌্য রাজ‌্যগুলির মুখ‌্যমন্ত্রীদের সমর্থনও তাঁর সরকার আদায় করবে বলে বার্তা দিয়েছেন স্ট‌্যালিন। বিজেপি এদিন ওয়াক আউট করলেও রাজ্যের বাকি সমস্ত দলই বিলটি সমর্থন করেছে।

 

সুপ্রিম কোর্ট ও কেন্দ্রের নির্দেশের বিরোধিতা করে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা হিসাবে নিট বাতিল করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব হচ্ছিলেন তামিল ভূমের নেতারা। তাঁদের দাবি, ইংরেজিতে এই সর্বভারতীয় পরীক্ষা দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না তামিল মাধ‌্যমে পড়াশোনা করা পড়ুয়ারা। শুধু ধনী ও অভিজাত সম্প্রদায় এর সুযোগ নিচ্ছে। অনেক মেধাবীই এই পরীক্ষায় ভাল ফল করতে পারছেন না। যার জেরে তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ‌্যৎ নষ্ট হচ্ছে। ধনুশের মৃত্যুতে তাঁদের সেই দাবিতেই ঘৃতাহুতি দিয়েছে। ইউপিএ জমানায় সহযোগী ডিএমকে প্রায় এক দশক মেডিক্যালে প্রবেশিকা পরীক্ষা ঠেকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু বিজেপি রাজত্বে সেই সুবিধা আদায় করতে পারেনি এআইএডিএমকে। যার জেরে রাজ্য বোর্ড পরীক্ষার্থীদের নিট-এ সাফল্য প্রায় দশ ভাগ কমে যায়। তুলনায় সাফল্য বাড়ে সিবিএসই বোর্ডের ছাত্রছাত্রীদের। ডাক্তারি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় শোক জানিয়ে এদিন বিধানসভায় স্ট‌্যালিন বলেন, “ইংরেজিতে নিট প্রবেশিকা পরীক্ষার কারণে গ্রাম ও শহরতলির বহু পড়ুয়া আতান্তরে পড়ে। কেন্দ্র তাদের সমস‌্যা বোঝে না। কেন্দ্রের গাফিলতি ও অনড় মনোভাবের জন‌্যই ওই পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। নিটের বিরোধিতা করে আজ থেকে আইনি লড়াই শুরু করলাম। পড়ুয়াদের ভবিষ‌্যৎ উজ্জ্বল করা রাজ‌্য সরকারের কর্তব‌্য। যতক্ষণ না কেন্দ্রীয় সরকার নিট পরীক্ষা প্রত‌্যাহার করে আমরা লড়ে যাব। আমরা জিতবই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *