বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ির করা এক অপমানজনক মন্তব্যের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল জেলা রাজনীতি। আশাকর্মীরা চুরির মাধ্যমে কাজ পেয়েছেন— বিধায়কের এমন কটূক্তি এবং গঙ্গাজলঘাটির আশাকর্মী রুম্পা মণ্ডলের আকস্মিক মৃত্যুর প্রতিবাদে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সমস্ত কাজ বন্ধ করে মঙ্গলবার জেলা জুড়ে গর্জে উঠলেন আশাকর্মীরা। শালতোড়ার বিধায়কের ইস্তফা ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে একাধিক বিডিও অফিসে চলে জোরালো বিক্ষোভ।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার, যখন বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি কয়েকজন আশাকর্মীর সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই বাড়তি কাজের মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে রুম্পা মণ্ডলের মৃত্যু হলে ক্ষোভের বারুদ উসকে ওঠে। মৃতার স্বজনরা বিচারের আর্জি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের সাথে বৈঠক করেন। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব চন্দনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। যদিও নিজের সাফাইয়ে বিধায়কের দাবি, কাউকে অপমান করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না, কেবল কাজের বিষয়ে তদারকি করেছিলেন।
অতিরিক্ত কাজের বোঝা সামলাতে না পেরে কর্মীর মৃত্যু ও আশাকর্মী ইউনিয়নের তীব্র আন্দোলনের মুখে নড়েচড়ে বসেছে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত জানান, প্রযুক্তিনির্ভর বা অতিরিক্ত সার্ভের কাজ সহজ করতে এবার আশাকর্মীদের সাথে সরকারি কর্মীদের যুক্ত করা হবে। তাছাড়া যাঁরা ডিজিটাল কাজে অভ্যস্ত নন, তাঁদের ওই ধরনের দায়িত্ব থেকে ছাড় দেওয়া হবে বলেও প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।


