মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলি। দিল্লির যন্তরমন্তরে এই কর্মসূচি হওয়ার কথা। বাম নেত্রী নেহাসহ একাধিক নেতা-কর্মী সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।জন্তর মন্তরে আটক করা হচ্ছে বিক্ষোভকারীদের। বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের আটক করেছে পুলিশ। অন্যদিকে আম আদমি পার্টির দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের দাবি, এই জমায়েতের জন্য কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ও শুক্রবার থেকে মুম্বইয়ের পাশাপাশি দেশের আরও ছয়টি রাজ্যে আন্দোলন শুরু করার কথা জানিয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, গোয়া, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ড। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অক্টোবরের শুরু থেকে দিল্লিতেও একই দাবিতে কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।তবে দিল্লির কর্মসূচি নিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। বামেদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভের জন্য দিল্লি পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি মেলেনি। একইভাবে মুম্বইয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র কর্মসূচিতেও মহারাষ্ট্র পুলিশের অনুমোদন পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।অনুমতি না পেলেও নির্ধারিত কর্মসূচি থেকে সরে আসতে রাজি নয় বাম ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলি। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশ বাধা দিলেও তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। ফলে শুক্রবার যন্তরমন্তর এলাকায় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই যন্তরমন্তর চত্বরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় গার্ডরেল বসানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সেখানে আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।এর আগে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে বাম দলগুলির সঙ্গে পুলিশের সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি-সহ কয়েকজন শীর্ষ বাম নেতাকে পুলিশ আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যায়। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই শুক্রবার ফের নতুন কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।এদিকে, ‘ককরোচ’দের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, জ্ঞানেশ কুমার যদি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু হয়, তাহলে দিল্লিতে পরবর্তী আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। এখন শুক্রবারের কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লির প্রশাসনের নজর যন্তরমন্তরের দিকে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তার জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে যন্তরমন্তরে বামেদের বিক্ষোভ, নেই পুলিশের অনুমতি, আটক বাম নেতা সৃজনসহ বিক্ষোভকারীরা!
Popular Categories


