শুক্রবার, ২ অক্টোবর থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেছে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন। একদিকে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) মুম্বই থেকে আন্দোলন শুরু করেছে, অন্যদিকে কংগ্রেস-সহ INDIA জোটও দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলাশাসকের দফতরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এর জেরে দিল্লি ও মুম্বই-সহ একাধিক শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে মূল জমায়েতের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। তবে ওই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এরপরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে CJP। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ‘জেল ভরো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। সংগঠনের দাবি, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে।
শুক্রবারের কর্মসূচিকে ঘিরে মুম্বইয়ে আগেভাগেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শিবাজি পার্ক ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে অভিজিৎ দীপকেকে পুলিশ আটক করেছিল বলে প্রাথমিকভাবে খবর ছড়ালেও পরে CJP-র তরফে দাবি করা হয়, তাঁকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
অন্যদিকে, দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA), রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। ২ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে ওই কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। আয়োজকদের তরফে কয়েক হাজার মানুষের জমায়েতের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল। তবে দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি।
বিক্ষোভ ঘিরে নয়াদিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট এলাকায় জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যন্তর মন্তর, সংসদ মার্গ এবং সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচল ও মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দিল্লি মেট্রো পরিষেবাতেও। নিরাপত্তাজনিত কারণে জনপথ, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, সেবা তীর্থ, মণ্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, INA, চাওড়ি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ এবং নিউ দিল্লি—এই ১১টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। কয়েকটি স্টেশনে অবশ্য ইন্টারচেঞ্জ পরিষেবা চালু রয়েছে।
এছাড়াও দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া জমায়েত, স্লোগান বা নির্দিষ্ট ধরনের মিছিল ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা। ফলে গান্ধী জয়ন্তীর দিন রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কার্যত কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রয়েছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই আন্দোলন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে SIR-সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।


