দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া এলাকায় হঠাৎই অশান্তির আবহ তৈরি হয়েছে। রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে বাড়তে গভীর রাতে গুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনায় পৌঁছয়। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন এক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূচনা হয় সন্ধ্যার দিকে জগদ্দল এলাকার আটচালা বাগানে। সেখানে এক তৃণমূল কর্মী দলীয় পতাকা লাগাচ্ছিলেন। অভিযোগ ওঠে, সেই সময় কিছু বিজেপি সমর্থক তাঁকে আক্রমণ করে। আহত অবস্থায় তিনি থানায় অভিযোগ জানাতে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের কয়েকজন স্থানীয় নেতা-কর্মী।এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অপর পক্ষের লোকজনও থানায় পৌঁছে যায়। দুই দলের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়, যা পরে ধাক্কাধাক্কি এবং মারামারির রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও উত্তেজনা কমেনি। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে থানার বাইরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইট ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ।তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, তাদের কর্মীর উপর হামলার বিচার চাইতে গেলে থানার মধ্যেই তাদের উপর চড়াও হওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জায়গাতেই নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের পাল্টা দাবি, থানায় গিয়ে তারাই আক্রান্ত হয়েছেন।কিছু সময় পরে থানার আশেপাশে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও অশান্তির আঁচ থেমে থাকেনি। পরে ঘটনাস্থল সরে যায় ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থী পবন সিংয়ের বাড়ির সামনে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সেখানে হঠাৎই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং গুলিও ছোড়া হয়।এই পরিস্থিতিতে প্রার্থীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। সেই সময়ই তাঁর পায়ে গুলি লাগে বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং অবস্থা স্থিতিশীল বলে খবর।ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই রাজনৈতিক পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। বিজেপির দাবি, শাসক দলের সমর্থকরাই এই হামলার সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, পুরো ঘটনাই পরিকল্পিত এবং এর নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে।এখনও পর্যন্ত ঠিক কে বা কারা গুলি চালিয়েছে, তা পরিষ্কার নয়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে আর কোনও অশান্তি না ছড়ায়।এই ঘটনার রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশনও। ভোটের আগে এই ধরনের হিংসার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়েই এখন চিন্তা বাড়ছে এলাকায়।
Popular Categories


