নদিয়া জেলা পরিষদে মাত্র ছয়জন নির্বাচিত সদস্য নিয়ে শুরু করা বিজেপি শেষ পর্যন্ত ৫২ আসনের জেলা পরিষদের বোর্ড গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত সভায় সমর্থন পেয়ে নতুন সভাধিপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন বিজেপির প্রণতি বিশ্বাস। এই ঘটনাকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
জেলা পরিষদে দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের অন্দরে মতবিরোধ চলছিল। দলের একাংশের সঙ্গে অন্য অংশের দূরত্ব ক্রমেই বাড়তে থাকে। সেই পরিস্থিতিতে তৎকালীন সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। ভোটাভুটিতে তিনি সমর্থন হারান। এরপর প্রশাসনিক নিয়ম মেনে নতুন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং একটি বিশেষ সভা ডাকা হয়।
সেই সভায় মোট ৩১ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বিজেপির ১৬ জন এবং তৃণমূলের ১৫ জন সদস্য ছিলেন বলে জানা যায়। যদিও নির্বাচনের সময় বিজেপির জেতা সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ছয়। পরে আরও ১০ জন সদস্য নিজেদের বিজেপির সঙ্গে থাকার কথা জানিয়ে বোর্ড গঠনে সমর্থন দেন। এর ফলে জেলা পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজেপি।
ওবিসি সংরক্ষিত আসনে প্রণতি বিশ্বাস বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাধিপতি নির্বাচিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেন, এই জয় কোনও এক ব্যক্তির নয়, বরং সকলের সম্মিলিত সাফল্য। নতুন বোর্ড মানুষের স্বার্থে কাজ করবে এবং স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।
বোর্ড গঠনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। তিনি দাবি করেন, দলের আহ্বানে অনেক জনপ্রতিনিধি নিজেদের বিবেক অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জগন্নাথ সরকার আরও বলেন, বিজেপি সব সময় স্বচ্ছ প্রশাসনের পক্ষে। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, মানুষের স্বার্থকে সামনে রেখেই কাজ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতিকে অনুসরণ করে নদিয়াকে আরও উন্নত ও শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলবে বলেও তিনি জানান।
নদিয়া জেলা পরিষদে এই পরিবর্তন আগামী দিনে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে এখন জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের সমর্থনে বিজেপির বোর্ড গঠন রাজ্যের পঞ্চায়েত রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।


