দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সংস্কারের দাবি সামনে আনতে চলেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা CJP। সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কারা জানিয়েছেন, এই বিষয়ে তাঁরা শীঘ্রই নিজেদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে আন্দোলনের পরিকল্পনা জানানো হতে পারে।
এর আগে NEET-এর প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নেমেছিল CJP। সংগঠনের দাবি, সেই আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও সামনে আসে। বর্তমানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো নিয়ে কাজ করছে সংগঠনটি। এবার তাদের নজর নির্বাচন ব্যবস্থার দিকে।
CJP-র বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং তার কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। কমিশনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার দাবি নিয়েই তারা আন্দোলনের পথে যেতে চাইছে।
সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা SIR-কে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্ত নিয়েও বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহল থেকে পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই CJP-র পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়। সংগঠনের তরফে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকের কথাও জানানো হয়েছে। সৌরভ দাস জানিয়েছেন, তাঁদের আগের কিছু কর্মসূচি আপাতত বাতিল করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিকে তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের ভিতরেও মতপার্থক্যের অভিযোগ সামনে এসেছে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, SIR সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা হয়নি। ওই দুই কমিশনার কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাঁদের তরফে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জানানোর কথাও সামনে এসেছে।
এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির কয়েকটি অংশ কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এবং পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের দাবিও উঠেছে। একই সময়ে বৃহত্তর গণআন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছে বিরোধী শিবিরের একাংশ।
এই পরিস্থিতিতে CJP-র নতুন কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংগঠনটি সাংবাদিক বৈঠকে কী কর্মসূচি ঘোষণা করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে বিভিন্ন মহলে।


