রাজস্থানে সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জীর্ণ স্কুল ভবন, পানীয় জলের সমস্যা, শৌচালয়ের অভাব এবং শ্রেণিকক্ষের ঘাটতির মতো বিষয় সামনে আনতে ‘স্কুল ঠিক করো’ নামে একটি অভিযান শুরু করেছে ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP। ১৫ অগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি স্কুল ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
CJP-র দাবি, রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকার বহু সরকারি স্কুলে এখনও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নেই। কোথাও ভবনের অবস্থা খারাপ, কোথাও আবার পড়ুয়াদের জন্য পর্যাপ্ত জল বা শৌচালয়ের ব্যবস্থা নেই। সংগঠনের সদস্যরা স্কুলগুলিতে গিয়ে সমস্যাগুলি নথিভুক্ত করছেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বিষয়গুলি তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন।
এরই মধ্যে রাজস্থান সরকার সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। আগামী তিন বছরে স্কুলের ভবন, শ্রেণিকক্ষ, শৌচালয় এবং স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরির জন্য ১২,৫০০ কোটি টাকার একটি রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরিকল্পনায় নতুন ভবন এবং হাজার হাজার শ্রেণিকক্ষ তৈরির কথাও রয়েছে।
এই সরকারি উদ্যোগকে নিজেদের অভিযানের সাফল্য হিসেবে দেখছে CJP। সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য, সরকারি স্কুলের বাস্তব অবস্থা সামনে আনার জন্যই তাঁরা মাঠে নেমেছেন। তাঁদের দাবি, নিয়মিত নজরদারি থাকলে স্কুলগুলির সমস্যাগুলি দ্রুত প্রশাসনের নজরে আসবে।
এর আগে জয়পুরের কাছে রামপুরা এলাকার একটি সরকারি স্কুল নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সেখানে স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর রাজ্য সরকারের তরফে নতুন ভবন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
তবে স্কুল পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে CJP-র সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরোধের ঘটনাও সামনে এসেছে। একটি ঘটনায় সংগঠনের সদস্যদের বাধা দেওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ উঠেছিল। CJP-র পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, তাদের গাড়িতে পাথর ছোড়া হয়েছিল। যদিও স্থানীয়দের বক্তব্য নিয়ে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন দাবি রয়েছে।
অন্যদিকে, স্কুল পরিদর্শনের ক্ষেত্রে বাইরের ব্যক্তিদের প্রবেশ এবং ছবি বা ভিডিও করার বিষয়ে রাজস্থান শিক্ষা দফতর নতুন নিয়ম জারি করেছে। অনুমতি ছাড়া স্কুল চত্বরে প্রবেশ এবং ছবি তোলার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, পড়ুয়াদের নিরাপত্তা এবং স্কুলে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখাই এই সিদ্ধান্তের কারণ।
এদিকে CJP জানিয়েছে, রাজস্থানের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেও তারা অভিযান চালাবে। উদয়পুর, ডুংগরপুর, বাঁশওয়াড়া, ঝালাওয়াড়, সিরোহি এবং বারান-আন্তা এলাকার স্কুলগুলিতে গিয়ে পরিকাঠামোর পরিস্থিতি নথিভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফলে রাজস্থানে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো এখন রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি প্রশাসনিক নজরেও রয়েছে। সরকারি ঘোষণাগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং প্রত্যন্ত এলাকার পড়ুয়ারা তার কতটা সুবিধা পায়, আগামী দিনে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


