আগুন নেভানো বা বিপদে পড়া মানুষকে উদ্ধার করার কাজে দমকলের গাড়ি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সেই দমকলের গাড়িই যদি কোনও জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত বাড়ি পরিষ্কার করার কাজে যায়, তা হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। গুজরাতের দাহোড়ে বিজেপি বিধায়ক বাচুভাই খাবাড়কে ঘিরে এমনই একটি ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় শুরু হয়েছে বিতর্ক।
সম্প্রতি বাচুভাইয়ের বাড়ির সামনে একটি দমকলের ইঞ্জিন দেখা যায়। প্রথমে স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো বাড়িতে কোনও আগুন লেগেছে বা জরুরি কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু পরে জানা যায়, আগুন নেভানোর জন্য নয়, বাড়ির বাইরের অংশ পরিষ্কার করার জন্যই সেখানে দমকলের গাড়ি পাঠানো হয়েছিল।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দমকলকর্মীরা হোস পাইপ দিয়ে জলের প্রবল ধারা ছুড়ে বাড়ির বিভিন্ন অংশ ধুয়ে দিচ্ছেন। বাড়িটি বেশ বড় এবং প্রাসাদসদৃশ হওয়ায় ঘটনাটি আরও বেশি নজর কেড়েছে। ভিডিওটি সামনে আসার পর থেকেই দমকলের মতো জরুরি পরিষেবাকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
বাচুভাই খাবাড় শুধু বর্তমান বিধায়কই নন, তিনি গুজরাত সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রীও। ফলে একজন জনপ্রতিনিধির বাড়ির কাজে সরকারি পরিষেবা ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, দমকলের গাড়ি ব্যবহারের জন্য বিধায়কের ছেলে বলবন্ত খাবাড়ের কাছ থেকে পুরসভার পক্ষ থেকে ২৭০০ টাকা নেওয়া হয়েছিল। এই অর্থ জমা নেওয়ার পর একটি রসিদও দেওয়া হয় বলে খবর। তবে টাকা নেওয়া হয়েছিল বলেই ব্যক্তিগত কাজে দমকল ব্যবহার নিয়মসঙ্গত কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।
দেবগড় বড়িয়া পুরসভার চিফ অফিসার জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরসভার নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজন অনুযায়ী দমকলের গাড়ি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। নিয়ম ভাঙার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিতর্কের মধ্যেও বাচুভাই খাবাড়ের পক্ষ থেকে এখনও প্রকাশ্যে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে, দমকলের গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম ভাঙা হয়েছিল কি না।


