যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠা এক পুলিশ আধিকারিকের পদোন্নতি ঘিরে দিল্লিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত এখনও শেষ হয়নি, তার মধ্যেই দিল্লি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগৎকে অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধী দল, বিভিন্ন সংগঠন এবং সাংবাদিক মহলের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। সেই বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে শনিবার তিন মহিলা সাংবাদিক পুলিশের কয়েক জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেন। তাঁদের অভিযোগের তালিকায় বিবেক ভগতের নামও রয়েছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জমা পড়ে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য দিল্লি পুলিশ মামলাটি ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে পাঠিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই তাঁর পদোন্নতির খবর সামনে আসায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, এটি কোনও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘটনা নয়। পদোন্নতির প্রক্রিয়া আগেই সম্পূর্ণ হয়েছিল। অভিযোগ ওঠার আগে থেকেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। বিবেক ভগত ছাড়াও আরও ১১ জন আধিকারিক একই সময়ে পদোন্নতি পেয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার দাবিতে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। রবিবার রাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান চলে। সোমবার সকালে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের কয়েক জনকে আটক করে বলে অভিযোগ। কয়েক জন সাংবাদিককেও থানার সামনে থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগকারী সাংবাদিকেরও আটক হওয়ার খবর সামনে এসেছে।
রবিবার ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকেও থানার সামনে বিক্ষোভ করা হয়। দলের নেতা সৌরভ দাসের অভিযোগ, অভিযোগকারী সাংবাদিক এবং তাঁর আইনজীবীরা উপস্থিত থাকলেও পুলিশ তাঁদের সঙ্গে যথাযথভাবে কথা বলেনি। পরে সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট এবং সৌরভ দাস থানায় গিয়ে এফআইআর করার দাবি জানান। কিন্তু পুলিশ সেই দাবি মেনে নেয়নি বলে অভিযোগ।
ঘটনাটি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা পুলিশের প্রাথমিক দায়িত্ব। দিল্লি পুলিশ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিরোধীরা।


