হায়দরাবাদে ধর্মের কারণে মুসলিম বাউন্সারদের কাজ থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ডান্ডিয়া অনুষ্ঠান, হোটেল এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মুসলিম বাউন্সার ও বাউন্সার সংস্থার প্রতিনিধিরা এই অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, ২০২৪ সাল থেকে ধীরে ধীরে এই সমস্যা শুরু হলেও চলতি বছরে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়েছে।রবিবার আদিকমেটে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে বাউন্সাররা তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, বেশ কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন যে মুসলিম বাউন্সারদের কাজে নেওয়া হবে না। এর ফলে বহু বাউন্সার কাজ হারিয়ে আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন।বাউন্সার এজেন্সির প্রতিনিধি এমডি ফিরোজ, যিনি ফজল নামেও পরিচিত, বলেন, আগে হায়দরাবাদের বেশিরভাগ ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে তাঁদের কাজের সুযোগ মিলত। কিন্তু এখন অনেক মুসলিম বাউন্সারকে জানানো হচ্ছে, তাঁদের আর কাজে নেওয়া হবে না। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতির কারণে বহু কর্মীর আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।আর এক প্রতিনিধি সালিগে প্রভাকর বলেন, ২০২৪ সালে বিষয়টি ছোট আকারে শুরু হয়েছিল। এখন কিছু আয়োজক প্রকাশ্যেই মুসলিমদের কাজে না নেওয়ার কথা বলছেন। বাউন্সারদের বক্তব্য, তাঁরা অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কাজ করেন। তাঁদের ধর্মের সঙ্গে কাজের যোগ থাকা উচিত নয়।প্রতিনিধিরা আরও বলেন, তেলেঙ্গানায় হিন্দু ও মুসলিম—দুই সম্প্রদায়ের হাজার হাজার বাউন্সার একসঙ্গে কাজ করেন। কারও ব্যক্তিগত ভুল বা অপরাধের দায় পুরো একটি সম্প্রদায়ের কর্মীদের ওপর চাপানো উচিত নয়। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিক, কিন্তু তার জন্য একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে কাজ থেকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়।এই বিষয়ে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডি, রাজ্য পুলিশের ডিজিপি সিভি আনন্দ এবং হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনার ভি সি সজ্জনারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বাউন্সার প্রতিনিধিরা। তাঁদের আবেদন, ধর্মের ভিত্তিতে কাজের সুযোগ বন্ধ করার অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি-ও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু উগ্রপন্থী সংগঠনের চাপের কারণে মুসলিম বাউন্সার ও অন্যান্য কর্মীদের কাজ থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিলে এই ধরনের বিভাজন বন্ধ করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।ওয়াইসি আরও বলেন, তেলেঙ্গানার মানুষের উচিত ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে থাকা। তাঁর মতে, সমাজে ধর্মীয় বিভাজন বাড়তে থাকলে শুধু সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকাই নয়, রাজ্যের উন্নয়নও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
Popular Categories


