Tuesday, July 21, 2026
26.2 C
Kolkata

আইআইএম কলকাতায় তরুণীকে ধর্ষন, নৃশংস অত্যাচার: তৃণমূলের আমলে শিক্ষাঙ্গনে কি আর নিরাপত্তা আছে?

জোকার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) কলকাতার বয়েজ হস্টেলে এক তরুণীর উপর চরম বর্বরতার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, ওই তরুণীকে কাউন্সেলিং সেশনের নাম করে ডেকে এনে হস্টেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে পিৎজা আর কোল্ড ড্রিংকের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। এরপর তাকে মারধর করে ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্ত পরমানন্দ জৈন, যিনি আইআইএম-এর ম্যানেজমেন্টের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, তাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। নির্যাতিতা ওই কলেজের ছাত্রী নন। তিনি তার এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। ঘটনার পর তিনি প্রথমে ঠাকুরপুকুর থানায় গেলেও পরে হরিদেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন কাণ্ড নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে শিক্ষাঙ্গনের ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে ওঠা পরিস্থিতির একটি জ্বলন্ত প্রমাণ। কসবা ল’ কলেজের পর এবার আইআইএম কলকাতা। একের পর এক এমন ঘটনা কি এটাই দেখাচ্ছে না যে তৃণমূলের আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আর নিরাপদ নেই? ছাত্র-ছাত্রীদের সুরক্ষা কোথায় গেল? বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের এই উদাসীনতা কি এসব অপরাধকে উৎসাহ দিচ্ছে না?

তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের দাপট আর নেতাদের দাদাগিরি এখন শিক্ষাঙ্গনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্যাম্পাসে তাদের অবাধ ক্ষমতার কারণেই কি এমন অপরাধ বারবার ঘটছে? সরকার কি শুধু চুপ করে বসে থাকবে? একজন তরুণীকে এভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হলো। তার জীবনটা তো শেষ হয়ে গেল! তার পরিবারের কী হবে? সমাজে মুখ দেখাবে কী করে সে? আর এসবের জন্য দায়ী কে? তৃণমূলের গুন্ডামি আর সরকারের অক্ষমতা ছাড়া আর কিছু কি এর পিছনে আছে?

পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে ঠিকই। কলেজে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। কিন্তু এতে কি সমস্যার সমাধান হয়? শুধু গ্রেফতার করে দায় এড়ানো যায় না। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য কঠোর আইন আর শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা বাড়ানো দরকার। কিন্তু তৃণমূল সরকার কি এসব নিয়ে ভাবছে? নাকি শুধু ভোটের রাজনীতি আর দলীয় গুন্ডাদের পিঠ চাপড়ানোতেই তারা ব্যস্ত?

এই প্রশ্নগুলো বারবার মনে আসে। কেন এমন ঘটনা থামছে না? কেন শিক্ষাঙ্গন অপরাধের আড্ডায় পরিণত হচ্ছে? তৃণমূলের ছাত্রনেতাদের দৌরাত্ম্য কি এতটাই বেড়ে গেছে যে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও আর নিরাপদ নেই? সরকার যদি এখনই কিছু না করে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে। শিক্ষাঙ্গনকে বাঁচাতে হলে তৃণমূলের কচি নেতাদের এই দাদাগিরি বন্ধ করা জরুরি। না হলে একদিন জনগণকেই রাস্তায় নামতে হবে।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories