নির্বাচন কমিশনের নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রাক্তন বিহার মন্ত্রী তথা বিকাশশীল ইনসান পার্টি (VIP)-র প্রধান মুকেশ সাহানি। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, কোনও একটি খুনের জন্য যদি তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, তাহলে প্রথমেই তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে গুলি করবেন। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।সাহানি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে এবং দেশের সংবিধান নিয়ে খেলা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সময় সবসময় একরকম থাকে না। ২০২৯ সালে কেন্দ্রে বিরোধী জোটের সরকার তৈরি হলে নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে পাঠানো হবে এবং তাঁর সঙ্গে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দাবি করেন সাহানি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁরা আইন মেনে চলেন এবং সংবিধানকে সম্মান করেন।সাহানির এই আক্রমণের পেছনে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ে সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট। *দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস*-এর এক তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য—সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী—কমিশনের কিছু সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, কিছু সিদ্ধান্ত তাঁদের জানানো বা অনুমোদন নেওয়া ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল।এই আপত্তিগুলির মধ্যে ভোটার তালিকায় নতুন নাম যোগ করা, নাম বাদ দেওয়া, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন এবং ভোটার তালিকার তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু বিষয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার উদ্বেগের কথা জানিয়ে ক্যাবিনেট সচিবের কাছেও চিঠি পাঠিয়েছিলেন।তবে নির্বাচন কমিশন এই রিপোর্টের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জানিয়েছে, কমিশনের সদস্যদের মধ্যে লিখিত মতামত, প্রশ্ন এবং প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়া স্বাভাবিক অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার অংশ। কমিশনের বক্তব্য, এই ধরনের আলোচনা আইনি নিয়ম মেনে কাজ করা এবং ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখার জন্যই করা হয়। একইসঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা SIR-সহ তাদের সব সরকারি সিদ্ধান্ত আইনসম্মত এবং কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ছিল।রিপোর্ট প্রকাশের পর বিরোধী দলগুলির একাধিক নেতা নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি কমিশনের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছে, অভ্যন্তরীণ আলোচনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। ফলে SIR এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
“একটি খুনের ক্ষমা পেলে জ্ঞানেশ কুমারকেই গুলি করতাম”, SIR বিতর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য VIP প্রধান মুকেশ সাহানির
Popular Categories


