রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে মুর্শিদাবাদে প্রায় ৩.৭২ লক্ষ আপিল জমা পড়েছে। কিন্তু সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিপুল সংখ্যক আপিলের মধ্যে মাত্র ২৭৫টির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, মোট আপিলের মাত্র ০.০৭ শতাংশের নিষ্পত্তি হয়েছে।সিভিক রিসার্চ গ্রুপ (CRG)-এর সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা তথ্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদে মোট ৩,৭২,২৪০টি আপিল নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৬০টি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং ১৫টি খারিজ হয়েছে। ফলে ৩,৭১,৯৬৫টি আপিল এখনও সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।মুর্শিদাবাদে এসআইআর-এর সময় ২২টি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ৪,৪৪,৩৩৭টি নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩,৮৫,৪৫৬টি ভোটার পরিচয়পত্রের নম্বর যাচাই করা হয়েছিল। যাচাই করা নথির মধ্যে ৩,৭২,২৪০টি ক্ষেত্রে আপিলের তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, যাচাই করা নথির প্রায় ৯৬.৫৭ শতাংশের ক্ষেত্রে আপিল করা হয়েছে। CRG-এর বিশ্লেষণে থাকা ২৩টি জেলার মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ হার।কেন্দ্রভিত্তিক হিসাবেও পরিস্থিতি বেশ উল্লেখযোগ্য। সামশেরগঞ্জে ৭১,৯৮৫টি নাম বাদ পড়েছিল। সেখানে ৬২,৬৩৯টি আপিল নথিভুক্ত হলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে মাত্র ৯টির। এর মধ্যে সাতটি গ্রহণ এবং দুটি খারিজ হয়েছে।লালগোলায় ৫৫,৩৯১টি নাম বাদ যাওয়ার পর ৫১,২০৬টি আপিল করা হয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত হয়েছে মাত্র ১১টির। ভগবানগোলায় ৩৭,৮০১টি আপিলের মধ্যে মাত্র ১০টির ফল জানা গেছে এবং সবকটিই গ্রহণ করা হয়েছে। রঘুনাথগঞ্জে ৪১,৭৯০টি আপিলের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে ১৯টির।জঙ্গিপুরে ৩২,৩৩২টি আপিলের মধ্যে ১৬টির সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফরাক্কায় ৩২,০৭৭টি আপিলের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে ১০টির। সুতি এলাকায় ২০,৩৩৮টি আপিলের মধ্যে মাত্র তিনটির সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডোমকলে নথিভুক্ত ২,৯১০টি আপিলের একটিরও সিদ্ধান্ত হয়নি।এই বিপুল সংখ্যক আবেদন কেন এখনও পড়ে রয়েছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা এই তথ্যভাণ্ডারে নেই। আবেদনগুলি কবে জমা পড়েছে, শুনানি হয়েছে কি না বা অতিরিক্ত নথি চাওয়া হয়েছে কি না—এসব তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না।CRG জানিয়েছে, তাদের বিশ্লেষণ অসম্পূর্ণ তথ্য, পোর্টালে তথ্য আপডেট হওয়ার সময় এবং পরবর্তী সংশোধনের মতো বিষয়গুলির কারণে পুরো পরিস্থিতির ছবি নাও দেখাতে পারে। ১৩,২১৬টি যাচাই করা নথিতে ‘আবেদন করা হয়নি’ বলে উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে অফলাইনে আবেদন জমা পড়লেও তা পোর্টালে ওঠেনি—এমন ঘটনাও থাকতে পারে।তবে এত বিপুল সংখ্যক আপিলের মধ্যে এত কম সিদ্ধান্ত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ ভোটার তালিকায় নাম থাকা একজন নাগরিকের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপিল এখনও বিচারাধীন থাকা মানেই ওই ভোটার ভুলভাবে বাদ পড়েছেন, এমন নয়। কিন্তু দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজভাবে সেই আপিলের নিষ্পত্তি হচ্ছে কি না, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
৩.৭২ লক্ষ আপিলের মধ্যে নিষ্পত্তি মাত্র ২৭৫টির, মুর্শিদাবাদে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন
Popular Categories


