রাজস্থানের আলওয়ার জেলার বারোদা মেও বাজারে প্রকাশ্যে সাইকুন খান নামে এক মুসলিম ব্যক্তিকে পাথর দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বারোদা মেও থানার কাছেই। পরিবারের অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই সাইকুনকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। ঘটনার পর ন্যায়বিচারের দাবিতে থানায় গেলে পুলিশ তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।সাইকুন খান বারাওয়াস গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। ঘটনার দিন তিনি তাঁর পরিচিত নূর মহম্মদের সঙ্গে বাইকে করে বারোদা মেও বাজারে গিয়েছিলেন। নূর একটি ব্যাংকে যাওয়ার জন্য ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০ মিটার আগে নেমে যান। সাইকুনের বাইকের টায়ারের টিউব কেনার কথা ছিল বলে জানা গিয়েছে।নূর জানিয়েছেন, কিছুক্ষণ পর একটি জোরে শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, এক ব্যক্তি সাইকুনের বুকের উপর বসে তাঁর মাথায় পাথর দিয়ে বারবার আঘাত করছেন। আশপাশে তখন বেশ কয়েকজন মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। অভিযোগ, থানার এত কাছে ঘটনা ঘটলেও পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করেনি। গুরুতর আহত হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে বলে নূরের দাবি।পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, থানার ভিতর থেকে ঘটনাস্থল সরাসরি দেখা যায় না। তবে ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা একটি দল দাবি করেছে, থানার প্রধান গেটের ঠিক উল্টো দিকেই হামলার জায়গাটি ছিল।পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত হর্ষ মূর্তিকারকে থানার ভিতরে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি চিৎকার করে বলেছিলেন, “আজ একজন মুসলমানকে মেরেছি, আরও মারব।” পরিবারের হাতে থাকা কিছু ভিডিওতেও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীকে ঘটনার বিবরণ দিতে শোনা যায়। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত থানার গেটের কাছে অপেক্ষা করছিলেন এবং সাইকুনকে দেখতে পেয়ে তাঁর বাইকের দিকে একটি বড় পাথর ছোড়েন। সাইকুন বাইক থেকে পড়ে গেলে তাঁকে সেই পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাইকুনের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা থানার সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেন। পরিবারের অভিযোগ, তাঁরা এফআইআর দায়ের এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানালে পুলিশ তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করে।সাইকুনের ভাই ইরশাদ বলেন, প্রথমে তাঁর ভাইকে থানার সামনে হত্যা করা হল, এরপর বিচার চাইতে গেলে তাঁদেরই পুলিশের লাঠির মুখে পড়তে হয়েছে। পরিবারের কাছে এই পরিস্থিতি আরও অসহায় হয়ে ওঠে। তাঁদের মূল দাবি এখন সাইকুনের ১৭ বছরের ছেলে সাহিল খানের জন্য ক্ষতিপূরণ ও একটি চাকরি।ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় মানুষের বক্তব্যও সামনে এসেছে। সাইকুনের কাকা রশিদ খান জানিয়েছেন, একসময় তাঁদের গ্রামটি এলাকায় ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির জন্য পরিচিত ছিল। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বাম দল বা কংগ্রেসকে ভোট দিতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তন হয়েছে বলে তাঁর দাবি।রশিদের অভিযোগ, বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে ধর্মীয় বিভাজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দূরত্বও বেড়েছে। সাইকুনের মৃত্যুর পর অন্য সম্প্রদায়ের খুব কম মানুষ তাঁদের বাড়িতে এসেছেন বলেও তিনি জানান।ঘটনাটি নিয়ে একটি বৃহত্তর প্রশ্নও উঠছে—প্রকাশ্য জায়গায় ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে কোনও মানুষ আক্রান্ত বা নিহত হলে সমাজের প্রতিক্রিয়া কতটা জোরালো হয়? পরিবারের অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ঘটনার সম্পূর্ণ সত্য নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।সাইকুনের পরিবারের কাছে এখন সবচেয়ে বড় বিষয় দ্রুত বিচার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা। তাঁদের আশঙ্কা, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পরিবারটি আর্থিক ও সামাজিকভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ফলে হত্যার তদন্তের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের ন্যায্য সহায়তা নিশ্চিত করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
রাজস্থানে সাইকুন খান হত্যাকাণ্ড: ধর্মীয় পরিচয় এর কারণে থানার সামনে খুন, বিচার চেয়ে পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ পরিবারের
Popular Categories


