তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফের শুরু হয়েছে জল্পনা। দলের জেলা স্তরের নেতা পঙ্কজ রায় সরকার সোমবার তৃণমূলের একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তিনি কি দল ছাড়তে চলেছেন? নাকি অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পঙ্কজ রায় সরকার খুব বেশি দিন আগে তৃণমূলে যোগ দেননি। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি সিপিএম ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে আসেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই দলের সাংগঠনিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। ফলে তাঁর মতো একজন নেতার হঠাৎ করে দলের বিভিন্ন যোগাযোগের মাধ্যম থেকে সরে যাওয়াকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে।
তবে নিজের অবস্থান নিয়ে কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন পঙ্কজ রায় সরকার। তাঁর বক্তব্য, কঠিন পরিস্থিতির সময়ে দলের সাধারণ কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রেই নেতৃত্বের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের পর থেকেই দলের বহু কর্মী ও নেতাকে নানা ধরনের চাপ এবং আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। সেই সময় যাঁদের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল, তাঁদের অনেককেই সামনে দেখা যায়নি বলে তাঁর দাবি।
পঙ্কজের কথায়, দলের সঙ্গে থাকার পিছনে তাঁর ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা কাজ করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেই দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখলেও রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি নেননি।
এই মন্তব্যের পরেই আরও একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসা এই নেতা কি এবার বিজেপি বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের দিকে পা বাড়াতে পারেন? যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি কোনও দলের নাম ঘোষণা করেননি। ফলে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার বিষয়টি আপাতত জল্পনার মধ্যেই রয়েছে।
পঙ্কজ রায় সরকার আরও বলেন, রাজনীতি এবং কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল—দুটিকে এক করে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, রাজনীতি মূলত একটি চিন্তাধারা ও মানুষের জন্য কাজ করার জায়গা। কোনও একটি দলের সঙ্গে যুক্ত থাকাই রাজনীতির একমাত্র পরিচয় নয়। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়ার ঘটনা এবং সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে তাই তৃণমূলের ভিতরে ও বাইরে আলোচনা চলছে। আগামী দিনে তিনি কোন পথে হাঁটেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


