দিল্লির কালকাজি এলাকায় ১৭ বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগের পর থেকেই লেডি শ্রী রাম কলেজ ফর উইমেনের (এলএসআর) আশপাশে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কলেজের পিছনের গেটের কাছে ওই মামলার এক অভিযুক্তকে আটক করার পর পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। এর মধ্যেই সমাজমাধ্যমে এক তরুণীর লেখা পোস্ট নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
আমোদিনী রাঠোর নামে ওই তরুণী দাবি করেছেন, এলএসআরের মেধাতালিকায় জায়গা পেয়েও শেষ পর্যন্ত সেখানে ভর্তি হতে পারেননি। তাঁর বক্তব্য, দিল্লিতে সাম্প্রতিক অপরাধের ঘটনা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা এতটাই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন যে, তাঁকে ওই কলেজে পাঠাতে রাজি হননি। পরিবারের আপত্তির কারণে স্বপ্নের কলেজে পড়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
লিঙ্কডইনে নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন আমোদিনী। তাঁর দাবি, এলএসআরে পড়ার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করেছিলেন। মেধাতালিকায় নাম ওঠার পর স্বাভাবিকভাবেই কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু দিল্লির ঘটনার পর তাঁর বাবা-মায়ের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাঁকে সেখানে ভর্তি না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বলেন তাঁরা।
আমোদিনীর দাবি, বাবা-মায়ের এই সিদ্ধান্তে তিনি মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর কথায়, সেই সময় মনে হয়েছিল এত দিনের পরিশ্রম যেন পরিবারের আশঙ্কার কাছে হার মেনে গেল। তবে পরে দিল্লির সাম্প্রতিক ঘটনা সামনে আসার পর নিজের বাবা-মায়ের উদ্বেগকে আর অমূলক বলে মনে হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে সমাজব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই তরুণী। তাঁর বক্তব্য, মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং সামাজিক পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। শুধু মেয়েদের চলাফেরা বা স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধ চাপিয়ে সমস্যার সমাধান করা যায় কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
তবে আমোদিনীর সমাজমাধ্যমের পোস্টের সত্যতা এনবিটিভি স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি। এদিকে, নাবালিকার উপর হামলার ঘটনার পর এলএসআরের আশপাশে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে আসিফ, হেমন্ত এবং হেমন্তের ভাই মুকেশ নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, আস্থা কুঞ্জ পার্কে ওই কিশোরী ও তার এক পুরুষ বন্ধুর কাছে গিয়ে অভিযুক্তেরা নিজেদের পুলিশকর্মী বলে পরিচয় দেয়। পরে কিশোরীকে বন্ধুর কাছ থেকে আলাদা করে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্ত চলছে।


