শুক্রবার সকালে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দিলেন এনসিপিআই-এর সাংসদেরা। এনডিএ-র অন্যান্য সাংসদদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক সাংসদও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সাংসদদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন এবং নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ আরও জোরদার করার পরামর্শ দেন।
এই বৈঠকে বিশেষভাবে নজর কাড়েন মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পঠান। গত কয়েক দিন ধরেই তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। বিজেপি বা এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তাঁরা প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তাঁদের উপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা উস্কে দিয়েছে।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আবু তাহের জানান, তাঁরা মুর্শিদাবাদ এবং পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু মানুষের নানা সমস্যা প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের সংখ্যালঘুরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। সেই বিষয়গুলি কেন্দ্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে বিশেষ গুরুত্বের কথা বলেছেন। বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় জানান, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে সকলের সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকার মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করার আহ্বান জানান। হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, দেশের অগ্রগতির লক্ষ্যে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকের আগে এনসিপিআই-এর সাংসদেরা বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়ের বাসভবনে যান। সেখান থেকে তাঁরা একসঙ্গে বাসে করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছন। বৈঠকের সময় বিভিন্ন সাংসদ নিজেদের কেন্দ্রের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন। মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার প্রধানমন্ত্রীকে গঙ্গাসাগর মেলায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণও জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সুযোগ হলে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
এদিকে, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে। এখনও পর্যন্ত লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে তাঁদের আলাদা দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের দাবিও উঠেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।


