পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তাবিত ‘গুন্ডা দমন’ বা ‘অ্যান্টি-গুন্ডা’ বিল নিয়ে আপাতত ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিলটিতে সম্মতি না দিয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন। কেন্দ্রের আপত্তির মূল কারণ, বিলের কয়েকটি ধারার সঙ্গে মাদক সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইনের মিল ও সম্ভাব্য সংঘাত।২০২৬ সালের জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’ পাস হয়। উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যে সমাজবিরোধী কাজ এবং সংগঠিত অপরাধ ঠেকানো। কিন্তু বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানোর পর কেন্দ্রের তরফে এর কয়েকটি ধারার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।কেন্দ্রের বক্তব্য, বিলটিতে ‘গুন্ডা’-র সংজ্ঞার মধ্যে এমন ব্যক্তিদেরও রাখা হয়েছে, যারা মাদক সংক্রান্ত অপরাধ করে, সেই অপরাধে সাহায্য করে বা অর্থ জোগায়। এই অংশটি ১৯৮৫ সালের নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস বা এনডিপিএস আইনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রের মতে, একই ধরনের বিষয়ে ১৯৮৮ সালের পিআইটিএনডিপিএস আইনে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক আটকের ব্যবস্থা রয়েছে।ফলে রাজ্যের প্রস্তাবিত আইনে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে আলাদা আর একটি আটক ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে। কেন্দ্রের মতে, এতে দুটি আইনের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত বা আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এনডিপিএস আইনের উল্লেখ থাকা ওই অংশটি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিলটি দ্রুত কার্যকর করার পরিকল্পনা থাকায় রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত সরকারের জন্য একটি বাধা। তবে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে বিলটি আবার বিধানসভায় পেশ করার সুযোগ রয়েছে। সংশোধনের পর সেটি ফের রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো যেতে পারে।বিলটিতে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সংজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি ‘গুন্ডা’ বলতে কাদের বোঝানো হবে, তারও উল্লেখ রয়েছে। কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমাজবিরোধী কাজের আশঙ্কা থাকলে জেলা শাসক, পুলিশ কমিশনার বা অনুমোদিত উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক তাঁকে নির্দিষ্ট এলাকা, জেলা বা একাধিক জেলা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিতে পারবেন। সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের গতিবিধি সম্পর্কে প্রশাসনকে জানাতেও বলা যেতে পারে।বিলটি নিয়ে এর আগে কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা হয়েছিল। ৬ আগস্ট বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ তিনটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এটি আইন হয়নি। তাই এই পর্যায়ে বিলের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে করা মামলা সময়ের আগেই করা হয়েছে।এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, জুলাইয়ের ২৪ তারিখের প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনায় ‘গুন্ডা দমন আইন’ প্রয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু পরে আদালতে রাজ্য সরকার জানায়, বিলটি তখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। আদালতও স্পষ্ট করে দেয়, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হলে তার বৈধতা নিয়ে নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া যাবে।
Popular Categories


