২০২৪ সালের সম্ভল হিংসার ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তা আইন বা NSA-তে মুল্লা আফরোজকে আটক করার সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে ১০ লক্ষ টাকা খরচ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।
আফরোজের বিরুদ্ধে জারি করা আটকাদেশ এবং পরে সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখার নির্দেশও বাতিল করেছে আদালত। এলাহাবাদ হাইকোর্টও আগে আফরোজের আটককে সমর্থন করেছিল। সেই রায়ও খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া স্বীকারোক্তিকে একমাত্র ভিত্তি করে প্রতিরোধমূলক আটক করা যায় না। ওই ব্যক্তিকে আটক করার আগে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য পরিস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এই মামলায় আটকাদেশ দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় সব তথ্য যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, পুলিশের হেফাজতে দেওয়া এমন স্বীকারোক্তি, যা আইনের চোখে গ্রহণযোগ্য নয়, তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিরোধমূলক আটক করা যায় না। আদালতের মতে, এই ধরনের বক্তব্য একা NSA-র অধীনে কাউকে আটক করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি তৈরি করতে পারে না।
জানা গিয়েছে, সম্ভলের জেলাশাসক ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর NSA-র ৩ নম্বর ধারায় আফরোজকে আটক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন আফরোজ। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরের হিংসার প্রায় ৫৪ দিন পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট থেকে জামিনও পান তিনি।
এই মামলার সূত্র ২০২৪ সালের নভেম্বরের সম্ভল হিংসার ঘটনায়। শাহী জামা মসজিদের আদালতের নির্দেশে হওয়া সমীক্ষাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে পরিস্থিতি হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। ওই ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছিল।
আফরোজের দায়ের করা আবেদনের শুনানি শেষে গত ৮ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা স্থগিত রেখেছিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার সেই মামলায় রায় ঘোষণা করে আদালত। পাশাপাশি, NSA-র অধীনে আটক করার ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনি নিয়ম ও নির্ধারিত সুরক্ষা মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্পষ্ট করেছে শীর্ষ আদালত।


