কেরলের পর এবার হায়দরাবাদ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও ভালো ফল করল বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই। এবিভিপিকে হারিয়ে ছাত্র সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি দখল করেছে এসএফআই এবং আম্বেদকর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জোট। এই ফলাফলে উচ্ছ্বসিত বাম ছাত্র নেতৃত্ব।
হায়দরাবাদ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে কয়েক বছর ধরে এসএফআই এবং আম্বেদকর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন একসঙ্গে নির্বাচনে লড়াই করে আসছিল। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই জোটের যথেষ্ট প্রভাব ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে ২০২৫ সালের নির্বাচনে দুই সংগঠন আলাদা হয়ে লড়াই করেছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথমবার ছাত্র সংসদের দখল নেয় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি।
এবার অবশ্য পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০২৬ সালের নির্বাচনে ফের একসঙ্গে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয় এসএফআই এবং আম্বেদকরপন্থী ছাত্র সংগঠন। সেই জোটের ফলেই এবিভিপির কাছ থেকে ছাত্র সংসদ ফিরে পেল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি।
ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট পদে জয় পেয়েছেন দিলশাদা রাইহান। উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে তিনি এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট পদেও জোটের প্রার্থী কোরা নীতিন চৌহান জয়ী হয়েছেন। তিনি ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রার্থী ছিলেন। এছাড়া পিএইচডি বোর্ড মেম্বার পদে জয় পেয়েছেন এসএফআইয়ের হাশিতা।
নির্বাচনের আগে থেকেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিল বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। তাদের দাবি ছিল, এবিভিপির সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী ইতিমধ্যেই এসএফআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ফলে এবার ভোটের ফল তাদের পক্ষে যেতে পারে বলে মনে করেছিল সংগঠনটি। হায়দরাবাদের এই ফলাফল এমন সময়ে সামনে এল, যখন সম্প্রতি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়েছিল এবিভিপি। ফলে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলে ভিন্ন ছবি দেখা গেল।
এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য হায়দরাবাদে জয়ের জন্য সংগঠনের কর্মী ও সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি কেরলের সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, কেরলে প্রায় ৬৫০টি কলেজের মধ্যে ৬০৯টিতে জয় পেয়েছে এসএফআই।
সৃজন ভট্টাচার্য আরও জানান, হায়দরাবাদ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট দিলশাদা রাইহানের বাড়ি কেরলের কান্নুরে। কেরলের পর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই জয় বাম ছাত্র সংগঠনগুলির কাছে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে তাদের নেতৃত্ব।


