মুর্শিদাবাদের বড়ঞা অঞ্চলে বালির অবৈধ কারবার চরম আকার ধারণ করেছে। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে প্রতি ট্রলি বালির দাম প্রায় আড়াই হাজার টাকা বেড়ে গেছে। আগে যে বালি ৪,৫০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেই একই পরিমাণের জন্য লাগছে সাড়ে ছয় হাজার টাকারও বেশি।
৭০ ঘনফুট বালির এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নির্মাণকাজ একেবারে থেমে গেছে। অনেক পরিবার বাড়ির কাজ আটকে রেখেছেন। বর্ষার আগে কাজ শেষ করার যে পরিকল্পনা ছিল, তা পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। ফলে শ্রমিকরাও কাজ হারাচ্ছেন এবং এলাকার অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, ময়ূরাক্ষী ও কানা নদী দিয়ে বড়ঞা ব্লকের উপর দিয়ে বয়ে গেছে। এখানে সরকারি খাদানের পাশাপাশি অবৈধ খাদান থেকেও বালি তোলা হয়। বর্ষা শুরু হওয়ায় সব খাদানে বালি তোলা বন্ধ হয়েছে। কিন্তু তার আগেই ব্যবসায়ীরা বড় আকারে বালি মজুত করে রেখেছিলেন। এখন সেই মজুত বালি বাজারে ছাড়া হচ্ছে চড়া দামে।
বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে তীব্র দাবি জানিয়েছেন — দ্রুত বালির দাম নিয়ন্ত্রণ করুক এবং অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
শালিকা গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “দাম বৃদ্ধির জন্য দোতলা বাড়ির কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি। এভাবে চললে সামনের বছরও কাজ শুরু করা কঠিন হবে।”
সুন্দরপুরের এক গ্রামবাসী বলেন, “খাদান বন্ধ হতেই দাম লাফিয়ে বেড়েছে। প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই।”
আরেক বাসিন্দা জানান, “ব্লকে অন্তত শতাধিক জায়গায় গোপনে বালি মজুত করে কালোবাজারি চলছে।”


