আসামের নগাঁওতে পাঁচজন মুসলমানের বাড়ি ধ্বংস করার বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে গুয়াহাটি হাইকোর্ট।
বিচারপতি কৌশিক গোস্বামী আসাম সরকারকে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের চূড়ান্ত খসড়া জমা দিতে বলেন। যেটি ইতিমধ্যেই তদন্তাধীন আছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে পিআইএল শুনানির সময় আদালত এই আদেশ দেয়।
রিপোর্ট প্রদানের জন্যে সরকারী কৌঁসুলি চার সপ্তাহ সময় চাইলে আদালত সেটি মঞ্জুর করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২২ সালে ২০ মে সফিকুল ইসলাম (৩৯) নামে এক ব্যবসায়ীকে পুলিশ শিবসাগর জেলায় যাওয়ার সময় গ্রেফতার করে। অভিযোগ রয়েছে তাকে ছাড়ার জন্যে পুলিশ ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। পরদিন তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশ হেফাজতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এই অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতা নগাঁও জেলার নিকটবর্তী বাটাদ্রভা থানায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরের দিন ওই ব্যক্তির জানাজা শেষে তার স্ত্রী এবং অষ্টম শ্রেণী প ুয়া বড় মেয়েসহ সাত গ্রামবাসীকে পুলিশ অগ্নিসংযোগের অভিযোগে তুলে নিয়ে যায়।
তাদের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের (ইউএপিএ) অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ। সে সময় নিহত সফিকুল ইসলামের বাড়িসহ তার দুই ভাই এবং দুই চাচাতো ভাইয়ের বাড়িও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে একজন আশিকুল ইসলাম ৩০ মে পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করলে একটি কথিত সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
সলোনাবাড়ি গ্রামে ৩০ হাজারের বেশি বাঙালি মুসলমান রয়েছে যারা এই ঘটনার জেরে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়।
সেই বছরের নভেম্বরে (২০২২) বিষয়টি গুয়াহাটি হাইকোর্টে নজরে আনা হলে হাইকোর্ট পাঁচজন মুসলিমের বাড়ি ভেঙ্গে দেওয়ায় পুলিশের নিন্দা করেন। আদালত জানায়, যে কোনও ফৌজদারি আইনে “তদন্তের ছদ্মবেশে” কোনও অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙ্গা যাবে না।
আদালত পুলিশের কাজটিকে “গ্যাং ওয়ার” এর সাথে তুলনা করে এবং পুলিশকে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আরও ভাল উপায় অবলম্বন করার পরামর্শ দেয়।
রাজ্য সরকার অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।
সে সময় মুখ্য সচিবের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি বাড়িটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায়। ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্যে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
কিন্তু কমিটির নিষ্ক্রিয়তার কারণে মামলাটি মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আদালতে অনুরোধ জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলি। আশ্বাসের পরও বারবার সময়ক্ষেপণ হওয়ায় তারা আদালতে যান।


