উত্তরাখণ্ডে মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত করে সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে মূলধারার স্কুলে পরিণত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় গভর্নর লে. জেনারেল গুরমিত সিং (অব.)। এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের মাদ্রাসা ও সংখ্যালঘু স্কুলগুলির শিক্ষানীতি পরিচালনায় এক বড় পরিবর্তন নির্দেশ করছে। নতুন আইনের আওতায় সব মাদ্রাসাগুলিকে উত্তরাখণ্ড মাইনরিটি এডুকেশন অথরিটি থেকে স্বীকৃতি নিতে হবে এবং উত্তরাখণ্ড বোর্ড অফ স্কুল এডুকেশনের সঙ্গে সংযুক্ত হতে হবে। ফলে, রাজ্যের মাদ্রাসা বোর্ডের কার্যক্রম শেষ হবে। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন এবং জানান, জুলাই ২০২৬ থেকে সব সংখ্যালঘু স্কুল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও জাতীয় শিক্ষা নীতি অনুসরণ করবে।
তবে, এই ঘোষণায় কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ মুসলিম সংগঠন ও মানবাধিকার গোষ্ঠী চিন্তা প্রকাশ করেছেন যে, রাজ্য অনুমোদন ও মানকৃত শিক্ষাক্রম মাদ্রাসার ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা হ্রাস পেতে পারে। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ এবং স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠনগুলি এই বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংখ্যালঘু স্কুলগুলিকে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করলে শিক্ষার সুযোগ বাড়বে, তবে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আধুনিক শিক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি। এটি উত্তরাখণ্ডের সংখ্যালঘু শিক্ষার আধুনিকীকরণের একটি বড় পদক্ষেপ, কিন্তু সরকারকে ধর্মীয় গোষ্ঠীর উদ্বেগও সমাধান করতে হবে বলে মনে করছেন একাংশ।


