দেশজুড়ে চলা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন অভিযান এসআইআর নিয়ে বিএলও-দের ওপর বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে গুজরাটের গীর সোমনাথ জেলায় এক বুথ লেভেল অফিসারের আত্মহত্যার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চলতি অভিযানে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে নয়জন বিএলও-এর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে চারজন আত্মহত্যা করেছেন অতিরিক্ত কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে। অরবিন্দ ভাধের নামক ৪০ বছরের ওই শিক্ষক বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরিবারের কাছে পাওয়া তার সুইসাইড নোটে লেখা ছিল, এসআইআর-এর কাজের চাপ আর সামলাতে পারছেন না তিনি। চিঠিতে তিনি স্ত্রী সঙ্গীতা ও ছেলে কৃষয়কে শেষবারের মতো ক্ষমা চান এবং নিজের অফিসের নথিপত্রের ব্যাগ স্কুলে জমা দিতে বলেন।
অরবিন্দের ভাই জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এসআইআর-এর লক্ষ্য পূরণ করতে রাতদিন কাজ করছিলেন। ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ করার চাপ তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। এই ঘটনার পর গুজরাটের শিক্ষক সংগঠনগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ অনলাইন এসআইআর প্রক্রিয়া বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেও এসআইআর-এর কাজের চাপে বিএলওদের এমন মৃত্যুর খবর উঠে আসছে বার বার।
পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে এক মহিলা বিএলও জানান, দিনভর ফর্ম সংগ্রহ করতে করতে পরিবারের জন্য সময়ই থাকে না। রাজস্থানে সাওয়াই মাধোপুরে হরিওম বাইরোয়ার হৃদরোগে মৃত্যু এবং জয়পুরে শিক্ষক মুক্তেশ জানগিদের আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। কেরালার কন্নুরে বিএলও অনীশ জর্জের মৃত্যুও তার পরিবার এসআইআর-এর অতিরিক্ত কাজের চাপের সঙ্গে যুক্ত করেছে। তামিলনাড়ুর কুম্ভকোনমে এক আঙ্গনওয়াড়ি কর্মীও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গিয়েছে।
এসব ঘটনায় বিভিন্ন রাজ্যের বিএলও-দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা জানান, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কঠিন লক্ষ্য ও মানসিক চাপে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য। কলকাতায় বেলিয়াঘাটা বিধানসভা এলাকার সাতজন বিএলও-কে এসআইআর ফর্ম ডিজিটাইজেশনে ত্রুটির জন্য নোটিশও দেওয়া হয়েছে।


