কোচবিহার জেলার দিনহাটা এক নম্বর ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দপ্তরে মঙ্গলবার এসআইআর শুনানিতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক মহিলা। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় বলে জানা গেছে।
অসুস্থ ওই মহিলার নাম লাভলী বিবি। তিনি মাতালহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের ভলকা গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার নাগরিকত্ব সংক্রান্ত এসআইআর শুনানির জন্য তিনি বিডিও অফিসে উপস্থিত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর তার মাথা ঘোরে এবং তিনি বসে পড়েন। সেই সময় তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং হাত-পা ঘেমে যাচ্ছিল।
ঘটনাটি নজরে আসতেই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকা এক কর্মী দ্রুত তাকে লাইনের বাইরে নিয়ে এসে বসান। এরপর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা ডালিয়া চক্রবর্তী ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে আসেন। কিছু সময় পর লাভলী বিবির শারীরিক অবস্থা খানিকটা স্থিতিশীল হয় বলে জানা যায়।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিডিও অফিসের সরকারি গাড়িতে করে তাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা ডালিয়া চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে এভাবে শুনানির জন্য লাইনে দাঁড় করানো অত্যন্ত অমানবিক। এতে তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।” তিনি আরও বলেন, যারা শারীরিকভাবে দুর্বল, প্রবীণ বা অন্তঃসত্ত্বা, তাদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়ে শুনানি নেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের এক কর্মী জানান, মহিলা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নথি যাচাই করে দ্রুত শুনানি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার কারণেই তাকে সরকারি গাড়িতে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে, অন্তঃসত্ত্বা, অসুস্থ ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এসআইআর শুনানির বর্তমান পদ্ধতি কতটা মানবিক।


