পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া এলাকার বহু মানুষ জীবিকার তাগিদে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যেতেন। কিন্তু সম্প্রতি এই পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবন নতুনভাবে বিপদে পড়ে। ওড়িশায় বাংলা বলার কারনে নিপীড়িত হতে হচ্ছে বহু পরিযায়ী শ্রমিককে এবং তারা নিরাপদে থাকতে না পেরে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন। তারা আশা করেছিলেন পরিস্থিতি ঠিক হলে আবার অন্য রাজ্যে কাজের খোঁজে যাবেন। কিন্তু হঠাৎ ‘এসআইআর’ শুনানির নোটিশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
একদিকে কাজ বন্ধ এবং অন্যদিকে নাগরিকত্ব প্রমাণের চাপ দু’য়ে মিলিয়ে শ্রমিক ও তাদের পরিবাররা এখন দিশাহারা। অনেকেই ভয় পাচ্ছেন, প্রয়োজনীয় নথি না দিতে পারলে নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। শুনানি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ উঠেছে, খসড়া ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কেউ বলছেন নামের বানান ভুল, কেউ বলছেন পারিবারিক তথ্যের সামান্য ভিন্নতার কারণে তাদের ডাকা হয়েছে। দীর্ঘদিন ভিনরাজ্যে কাজ করে সংসার চালানো মানুষদের পক্ষে হঠাৎ সব কাগজপত্র জোগাড় করা সহজ নয়।
পাঁশকুড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৩২০০ ভোটারের মধ্যে ১২০০ জনকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরা, ওড়িশা, ছত্তিশগড় ও কেরালা সহ বিভিন্ন রাজ্যে কর্মরত অনেক যুবক নোটিশ পেয়ে ফিরে এসেছেন। কিন্তু গ্রামে কাজের সুযোগ সীমিত হওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।


