দিল্লির রাজপথে সোমবার এক নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে অবস্থানরত কয়েকটি বাঙালি পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ ওঠে, এসআইআর সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে পুলিশ হয়রানি করছে। জানা গিয়েছে, ২৮ জানুয়ারি থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বহু মানুষ দিল্লির দুই বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকা সত্ত্বেও নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। সোমবার সকালে আচমকাই সেখানে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয় বলে অভিযোগ। কয়েকটি জায়গায় বাস দাঁড় করানো ছিল এবং বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয় বলেও দাবি ওঠে।
এই খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত চাণক্যপুরীর বঙ্গভবনের দিকে রওনা দেন। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর আর দেরি না করে বাড়ির পোশাকেই বেরিয়ে পড়েন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বঙ্গভবনে পৌঁছে তাঁরা সেখানে থাকা পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁদের বক্তব্য সাংবাদিকদের সামনেও তুলে ধরা হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বাঙালিদের থাকা জায়গায় ঢুকে পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, মুখ্যমন্ত্রী জেড প্লাস নিরাপত্তা পান বলেই শুধু নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বঙ্গভবনের ভেতরে ঢোকার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুল বলে দাবি করা হয়।
বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন পদক্ষেপে আদেও কি SIR সংক্রান্ত সমস্যার সুরাহা হবে? পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়া শুরুর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “আমি বেঁচে থাকতে একটাও SIR হতে দেবো না।” রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর এমন বিবৃতির পরেও জল এত দূর গড়ালো কি করে? রাজ্যে প্রতিনিয়ত SIR আতঙ্কে যে মৃত্যুগুলো ঘটছে তার দায়ভার কে নেবে?


