চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বনগাঁ ও নদিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অভিযোগ, বহু মানুষের নাম তালিকায় ওঠেনি। ঠিক কতজনের নাম বাদ গিয়েছে, তার সরকারি হিসাব এখনও স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয় সূত্রে আশঙ্কা, সংখ্যা কম নয়।
খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়ই অনেককে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। তখন থেকেই আতঙ্ক ছিল, বড় সংখ্যায় নাম বাদ যেতে পারে। এখন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, শুনানিতে হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অনেকের নাম নেই।
স্থানীয়দের দাবি, কোথাও দেখা যাচ্ছে বাবা-মায়ের নাম রয়েছে, কিন্তু ছেলের নাম নেই। আবার কোনও পরিবারে দুই বা তিনজনের নাম বাদ পড়েছে। বনগাঁ এলাকায় প্রায় চল্লিশ হাজার এবং নদিয়ায় প্রায় ষাট হাজার মতুয়ার নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে শোনা যাচ্ছে। যদিও এই সংখ্যা নিয়ে এখনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের আগের আশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি আগে বলেছিলেন, একজন মতুয়ারও নাম বাদ যাবে না। এখন তাঁর বক্তব্য, ভয় পাওয়ার কারণ নেই, কাউকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে না। তবে কতজনের নাম বাদ গিয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের আওতায় বলেই জানিয়েছেন তিনি।
এ নিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, যদি মতুয়াদের নাম বাদ পড়ে থাকে, তার দায় সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদেরই নিতে হবে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ আসছে বলেও তিনি জানান।
ভোটার তালিকা নিয়ে এই অনিশ্চয়তায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। অনেকেই এখন জানতে চাইছেন, নাম পুনর্ভুক্তির জন্য কীভাবে আবেদন করা যাবে। প্রশাসনের তরফে এখনও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে উদ্বেগ কাটছে না বনগাঁ ও নদিয়ার মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায়।

