Saturday, September 5, 2026
28 C
Kolkata

নরেন্দ্র মোদির ইজরায়েল সফরকে দেশের কূটনৈতিক বিপর্যয় মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা

পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক ইজরায়েল সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। সিপিএম, কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মতে, এই সফর এমন এক সময়ে হয়েছে যখন ওই অঞ্চলে যুদ্ধ ও অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান জটিল হয়ে পড়তে পারে।

সিপিআই(এম)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপত্র পিপলস ডেমোক্র্যাসি-র একটি সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষের মধ্যে ভারতের অবস্থান খুবই সংবেদনশীল। গাজা অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ এখনও পুরোপুরি থামেনি। বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অসংখ্য বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে নতুন নতুন ইজরায়েলি বসতি গড়ে ওঠার কারণে স্বাধীন প্যালেস্তাইনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বের অনেক দেশই মনে করছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরেও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আন্তর্জাতিক মহলে শান্তি প্রতিষ্ঠার নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যে শান্তি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, সেই পরিকল্পনা প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠার বদলে রাজনৈতিক স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

সম্পাদকীয়তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বহু পুরোনো। উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় শ্রমিক কাজ করেন। তাদের পাঠানো অর্থ ভারতের বহু পরিবারের জীবিকা এবং বিভিন্ন রাজ্যের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ভারতের অধিকাংশ তেল ও জ্বালানি ওই অঞ্চলের সমুদ্রপথ দিয়ে আসে। ফলে সেখানে অস্থিরতা বাড়লে ভারতের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে।

গাজা পরিস্থিতির পরে অনেক উপসাগরীয় দেশ ইজরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে। কিছু আন্তর্জাতিক চুক্তিও কার্যত থেমে গেছে। এই সময়ে ভারতের সঙ্গে ইজরায়েলের ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ্যে আসায় অনেকেই অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সমালোচকদের মতে, হলোকাস্ট স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও গাজায় সাধারণ মানুষের মৃত্যুর বিষয়ে ভারতের নীরবতা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন, এই অবস্থান ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্বাধীনতার পর থেকে ভারত সাধারণত নিরপেক্ষতা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে কথা বলেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও এক পক্ষের কাছাকাছি যাওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ভারতের সম্ভাব্য কৌশলগত সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু প্রস্তাবিত সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার কথা সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে বলে মত অনেকের। কারণ এতে পশ্চিম এশিয়ার জটিল রাজনীতির মধ্যে ভারত আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনাও দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র। সাম্প্রতিক হামলা ও পালটা হামলার ফলে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং ইজরায়েলের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে খবর প্রকাশ্যে এসেছে। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়।

এই পরিস্থিতির অর্থনৈতিক প্রভাবও দেখা যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন হয়। সংঘাতের কারণে ওই পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। এর প্রভাব ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিকারী দেশগুলির ওপর পড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানো দরকার।

Hot this week

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

‘আমরা কি কারও গোলাম?’ টাটাদের ব্যবসা গোটানোর নির্দেশ কেনিয়ার রাষ্ট্রপতির

কেনিয়ায় বড়সড় ধাক্কার মুখে টাটা গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সামলানোর...

অগ্নিনিরাপত্তায় বড়সড় গলদ! অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করার কড়া নোটিস দমকলের

কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের...

Related Articles

Popular Categories