জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কমিটি এম এ কোর্স থেকে মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ, সৈয়দ আহমেদ খান ও মুহাম্মদ ইকবালের উপর থাকা অংশ বাদ দেওয়ার কথা বলেছে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষামহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের অনুভূতির কথা ভেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক শিক্ষাবিদ এই যুক্তিকে মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, উচ্চশিক্ষার জায়গায় এমন একপেশে সিদ্ধান্ত শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। তারা মনে করেন, পড়াশোনার উদ্দেশ্য শুধু গ্রহণযোগ্য মত শেখানো নয়, বরং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হওয়া।
কিছু অধ্যাপক বলেন, ইতিহাস বোঝার জন্য নানা মত ও চিন্তার ধারাকে জানা জরুরি। বিতর্কিত হোক বা অপ্রিয়, গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের বাদ দিলে ছাত্রছাত্রীরা পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাবে না। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাস বুঝতে জিন্নাহ, ইকবাল ও সৈয়দ আহমেদ খানের ভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তাঁরা মত দেন।
সমালোচকদের আরও বক্তব্য, শিক্ষার্থীরা যখন স্নাতকোত্তর স্তরে পৌঁছায়, তখন তাদের চিন্তাভাবনা পরিপক্ব হওয়ার কথা। সেই সময় যদি পাঠ্যক্রম থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা তাদের বৌদ্ধিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তারা মনে করেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় ভিন্ন মত, বিতর্ক এবং অস্বস্তিকর প্রশ্নের জায়গা থাকা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, এই প্রস্তাব ঘিরে শিক্ষাজগতে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


