Saturday, September 5, 2026
28 C
Kolkata

পদ নেই, তবু দাপট অটুট! বিডিও অফিসে এখনও প্রশান্ত বর্মনের নাম ঘিরে বিতর্ক

পদ থেকে সরে যাওয়ার চার মাস পরেও রাজগঞ্জের বিডিও অফিসের বাইরে জ্বলজ্বল করছে প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নাম। দত্তাবাদে এক সোনা ব্যবসায়ী খুনের মামলায় নাম জড়ানোর পর গত জানুয়ারি মাসে প্রশান্ত বর্মনকে বিডিওর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এতদিন ধরে কেন তাঁর সেই নেমপ্লেটটি সরানো হয়নি, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। জলপাইগুড়ির জেলাশাসক সন্দীপকুমার ঘোষ অবশ্য জানিয়েছেন যে, নেমপ্লেটটি দ্রুত খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে পুলিশের খাতায় প্রশান্ত বর্মনকে ‘পলাতক’ হিসেবে দেখানো হলেও, স্থানীয়দের অভিযোগ অন্য কথা বলছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে রাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়, এমনকি বিডিও অফিসেও আসতে দেখা গেছে বলে দাবি অনেকের। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, ক্ষমতার চেয়ারে না থেকেও প্রশাসনের ভেতরে কি তবে এখনও তাঁর প্রভাব কাজ করছে? বিডিও অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সঙ্গে তাঁর গোপন যোগাযোগ রয়েছে কিনা এবং তিনি গোপনে ব্লকের প্রশাসনিক কাজে কোনো নাক গলাচ্ছিলেন কিনা, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রশ্নগুলো আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। খুনের মামলা ও চোরাচালানের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন ব্যক্তি এভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন, তা নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। বিজেপি নেত্রীর হুঁশিয়ারি, তাঁদের সরকার প্রশান্ত বর্মনকে কোনোভাবেই রেহাই দেবে না। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে প্রশান্ত বর্মন গজলডোবা এবং রাজগঞ্জ বিডিও অফিসের সামনে এসে দাপট দেখিয়ে গেলেও পুলিশ তখন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি আরও দাবি করেন যে, প্রশান্ত বর্মন বিডিও থাকাকালীন সরকারি প্রকল্পে কোথায় কী দুর্নীতি করেছেন, তা খতিয়ে দেখার জন্য সব ফাইল নতুন করে খোলা হবে এবং দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে। বিজেপি নেতৃত্ব পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এবারও যদি তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকে, তবে কাউকেই ছেড়ে কথা বলা হবে না।

বাস্তবে রাজগঞ্জ ব্লক অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দোতলায় বিডিওর বন্ধ চেম্বারের বাইরে এখনও প্রশান্ত বর্মনের নেমপ্লেট লাগানো রয়েছে। তিনি পদ ছাড়ার পর থেকে সেই ঘরটি তালাবন্ধই পড়ে আছে। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা জয়েন্ট বিডিও সৌরভকান্তি মণ্ডল সেই ঘরে না বসে, নীচের তলায় নিজের পুরোনো ঘরে বসেই কাজ চালাচ্ছেন। তাঁর দাবি, বিডিওর চেম্বারের বিষয়ে বা নেমপ্লেট নিয়ে তিনি বিশেষ কিছু জানেন না এবং তিনি ওই ঘরে বসতেও চাননি। তবে ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, পূর্বতন সরকারের আমলে হওয়া বিভিন্ন কাজের স্ক্রুটিনি বা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং প্রশান্ত বর্মনের সময়ে হওয়া কাজগুলোকেও বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Hot this week

‘আমরা কি কারও গোলাম?’ টাটাদের ব্যবসা গোটানোর নির্দেশ কেনিয়ার রাষ্ট্রপতির

কেনিয়ায় বড়সড় ধাক্কার মুখে টাটা গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সামলানোর...

Topics

‘আমরা কি কারও গোলাম?’ টাটাদের ব্যবসা গোটানোর নির্দেশ কেনিয়ার রাষ্ট্রপতির

কেনিয়ায় বড়সড় ধাক্কার মুখে টাটা গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সামলানোর...

অগ্নিনিরাপত্তায় বড়সড় গলদ! অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করার কড়া নোটিস দমকলের

কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের...

সিজেপি আন্দোলনে মাথা ফাটিয়েও হয়নি জেল! মোদীকে ‘দাদা’ বলে বিতর্ক উস্কে দিলেন হিন্দুত্ববাদী নেতা

দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীর অভিভাবককে রক্তাক্ত করার কথা প্রকাশ্যে...

Related Articles

Popular Categories