Tuesday, September 15, 2026
33 C
Kolkata

বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের ভরসা এনসিপিআই, বাংলাতেই দলের কার্যালয়

রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ সাংসদ দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে নতুন রাজনৈতিক পথ খুঁজছেন বলে খবর। সূত্রের দাবি, তাঁরা এবার ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এনসিপিআই কোনও নতুন নাম নয়। কয়েক বছর আগে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে দলটি নিজেদের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা করেছিল। নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতির প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে বিভিন্ন সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনও প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে দলের উদ্দেশ্য, সংগঠনের কাঠামো এবং কার্যালয়ের ঠিকানা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। হাওড়ার বাঁকড়া এলাকায় দলের একটি কার্যালয়ের উল্লেখও ছিল সেই বিজ্ঞপ্তিতে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দলটি মূলত উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অঞ্চলে সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে জনজাতি সম্প্রদায়ের নানা বিষয় নিয়ে কাজ করার দাবি করে তারা। যদিও জাতীয় বা রাজ্য রাজনীতিতে এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। অতীতে নির্বাচনে অংশ নিলেও সাফল্য অধরাই থেকেছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে অস্থিরতা বাড়তে শুরু করেছে। দলের একাংশ প্রকাশ্যেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে শুরু করে। বিধানসভা এবং লোকসভা— দুই ক্ষেত্রেই আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির চেষ্টা দেখা যায়। কিছু সাংসদ সংসদে পৃথক পরিচয় ও স্বীকৃতির দাবিও তুলেছিলেন।

তবে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনও স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের কিছু সদস্য আলাদা হয়ে গিয়ে সহজে নতুন সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারেন না। এই বিষয়টি উল্লেখ করে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও লোকসভার স্পিকারের কাছে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তাঁদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস একটি ঐক্যবদ্ধ দল এবং দলের ভেতর থেকে পৃথক গোষ্ঠী গঠনের সুযোগ নেই।

এই পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী সাংসদদের এনসিপিআই-র সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগকে রাজনৈতিক মহল একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। এর মাধ্যমে তাঁরা নতুন রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন, এই পদক্ষেপ কতটা সফল হবে এবং ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজনীতিতে এর কী প্রভাব পড়বে। বিদ্রোহী শিবিরের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং স্পিকারের অবস্থানের উপরই অনেকটা নির্ভর করছে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ।

Hot this week

স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে BRICS, গাজা থেকে সাধারণ মানুষদের উচ্ছেদে কড়া আপত্তি!

গাজায় চলতে থাকা হিংসা, ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে...

‘বিশ্বের সবচেয়ে স্বচ্ছ ভারতের নির্বাচন প্রক্রিয়া!’ দাবি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের

ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা কতটা নিয়ম মেনে এবং স্বচ্ছভাবে পরিচালিত...

২০ জনের মধ্যে ১৭ জন NCPI সাংসদ যোগ দিতে চলেছেন বিজেপিতে! ৩ তিনজন মুসলিম সাংসদ থাকছেন NDA-তে

তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া ২০ জন সাংসদকে ঘিরে...

‘৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষাশী’, ব্রিকসের নৈশভোজে নিরামিষ মেনু নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা রাহুলের

ভারতে খাবারের পছন্দ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন নয়। তবে...

Topics

স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে BRICS, গাজা থেকে সাধারণ মানুষদের উচ্ছেদে কড়া আপত্তি!

গাজায় চলতে থাকা হিংসা, ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে...

বদলাবে লেনিন সরণির নাম, তালিকায় মেয়ো রোডও!

রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতার একাধিক রাস্তার নাম পরিবর্তন হয়েছে।...

২০২৯-এর আগেই বিজেপি শাসিত সব রাজ্যে UCC! বড় ঘোষণা অমিত শাহের

বিজেপি শাসিত সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অভিন্ন দেওয়ানি...

Related Articles

Popular Categories