সিন্ধু সভ্যতার সাড়ে চার হাজার বছরের পুরনো ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ নিদর্শন ‘নৃত্যরত নারী’ বা ড্যান্সিং গার্ল-এর মূর্তি নিয়ে এবার এক নজিরবিহীন বিতর্কের সৃষ্টি হল। কয়েক দশক ধরে দেশের ইতিহাস বইয়ে যেভাবে এই বিখ্যাত মূর্তিটির আসল ছবি স্থান পেয়ে আসছিল, মোদি সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতির অধীনে তাতে এক বড়সড় বদল এনেছে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং বা এনসিইআরটি। নবম শ্রেণির শিল্পকলা বিষয়ক নতুন পাঠ্যপুস্তকে এই ঐতিহাসিক প্রাচীন মূর্তিটির ছবি বদলে দেওয়া হয়েছে। মূল ব্রোঞ্জের মূর্তিটি নগ্ন হলেও, নতুন বইয়ের ছবিতে সেটির শরীরের বেশ কিছু অংশ কৃত্রিমভাবে কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় দেখানো হয়েছে।
মহেঞ্জোদারোয় আবিষ্কৃত মাত্র সাড়ে দশ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই অনন্য ভাস্কর্যটি তার সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনার জন্যই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। আবিষ্কৃত সেই মূল মূর্তির এক হাতে একগুচ্ছ চুড়ি এবং গলায় একটি হার ছাড়া আর কোনও পোশাক ছিল না। কিন্তু এনসিইআরটি-র নতুন বইয়ে যে মূর্তির ছবি ছাপা হয়েছে, সেখানে সেটির গায়ের রঙ গাঢ় করার পাশাপাশি পোশাক পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ইতিহাসবিদ ও শিক্ষামহলে ইতিহাস বিকৃতির তীব্র অভিযোগ উঠেছে। যদিও এনসিইআরটি-র অধিকর্তা দীনেশ শাকলানি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি, তবে সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য টেক্সট বুক ডেভলপমেন্ট টিমের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর আগেও ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই মূর্তির একটি সমসাময়িক সংস্করণ ম্যাসকট হিসেবে উন্মোচন করেছিলেন। সেখানেও মূল প্রাচীন কৃষ্ণবর্ণের নগ্ন মূর্তির বদলে উজ্জ্বল গোলাপি ব্লাউজ ও অফ-হোয়াইট জ্যাকেট পরানো পাঁচ ফুটের একটি ফর্সা মূর্তি তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময়েও প্রত্নতাত্ত্বিকরা এর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। এবার স্কুলের পাঠ্যবইয়ে সরাসরি মূল নিদর্শনের রূপ বদলে দেওয়ার এই প্রয়াস দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির গৈরিকীকরণের এক নতুন নজির বলে সরব হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


