দিঘা থেকে ঘুরে কলকাতায় ফেরার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ল একটি যাত্রীবাহী এসি বাস। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি মহকুমার ছত্রধরা বাসস্ট্যান্ডের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় অন্তত ১০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিঘা থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ‘সন্তোষ’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস। বাসে বহু পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ছত্রধরা এলাকায় পৌঁছনোর পর আচমকা একটি মোটরবাইক বাসের সামনে চলে আসে। ওই বাইক আরোহীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন বাসচালক। সেই সময় বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় এবং সেটি রাস্তার ধারে নেমে গিয়ে পাশের নয়নজুলিতে উল্টে পড়ে।দুর্ঘটনার পর বাসের ভিতরে আটকে পড়েন বেশ কয়েকজন যাত্রী। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কাঁথি থানার পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় আহতদের বাস থেকে বের করে কাঁথি দারুয়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।দুর্ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। তবে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং রাস্তার স্বাভাবিক যান চলাচল ফিরিয়ে আনে। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বাসের গতি, রাস্তার পরিস্থিতি এবং চালকের ভূমিকা—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।উল্লেখযোগ্যভাবে, কাঁথির ছত্রধরা এলাকায় এর আগেও একাধিক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও দিঘা থেকে কলকাতাগামী একটি বাস একই এলাকায় দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। সেদিন ভোরবেলায় ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম ছিল। সেই অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি রোলারের সঙ্গে ধাক্কা মারে বাসটি। দুর্ঘটনায় বাসের সামনের অংশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী আহত হন।এছাড়া গত বছরের শেষ দিকেও দিঘা থেকে কলকাতা ফেরার পথে একটি মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এক পর্যটক। হেঁড়িয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাছে দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে ওই মৃত্যু হয়। আহত হন আরও চারজন।পরপর একাধিক দুর্ঘটনার জেরে দিঘা-কলকাতা রুটের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলিতে আরও কড়া নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
Popular Categories


