২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গা সংক্রান্ত বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত সমাজকর্মী উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিনের আবেদন নিয়ে দিল্লির একটি আদালতে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়েছে। শনিবার শুনানি শেষে আদালত রায় সংরক্ষণ করে রেখেছে। অতিরিক্ত সেশন বিচারক সমীর বাজপেয়ী উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর জানান, পরে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।উমর খালিদ ও শরজিল ইমাম প্রায় ছয় বছর ধরে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, এখনও পর্যন্ত মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনই শুরু হয়নি। ফলে এত দীর্ঘ সময় ধরে জেলে রাখা তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার, বিশেষ করে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থী।জামিনের আবেদনে উমর খালিদের আইনজীবীরা জানান, তাঁর আগের জামিন আবেদন সুপ্রিম কোর্ট চলতি বছরের জানুয়ারিতে খারিজ করলেও এরপর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি অন্য একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে সাধারণভাবে জামিনই নিয়ম হওয়া উচিত, এমনকি ইউএপিএ-র মতো কঠোর আইনেও। খালিদের পক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক বিভিন্ন আদালতের পর্যবেক্ষণ দীর্ঘদিন বিচার ছাড়া আটক রাখার বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।অন্যদিকে শরজিল ইমামের পক্ষ থেকেও আদালতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের পরও মামলার শুনানিতে তেমন কোনও অগ্রগতি হয়নি। মামলায় বহু অভিযুক্ত, অসংখ্য সাক্ষী এবং বিপুল পরিমাণ নথিপত্র রয়েছে। ফলে বিচার প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই অবস্থায় দীর্ঘদিন জেলে রাখা ন্যায্য নয় বলে দাবি করা হয়।জামিনের আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিচার প্রক্রিয়া অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ হলে ইউএপিএ-র জামিন সংক্রান্ত বিধিনিষেধও সাংবিধানিক অধিকারের উপরে স্থান পেতে পারে না।উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। যদিও একই মামলায় কয়েকজন অন্য অভিযুক্ত জামিন পেয়েছিলেন। তখন আদালত প্রাথমিকভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র অধীনে অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছিল।এই মামলার সূত্রপাত ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং প্রস্তাবিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-র বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় ওই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেই হিংসায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয় এবং ৭০০-র বেশি মানুষ আহত হন।তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, উমর খালিদ, শরজিল ইমামসহ একাধিক ব্যক্তি ওই দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তবে অভিযুক্তরা শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা মামলায় উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিন আবেদন নিয়ে রায় সংরক্ষণ করল দিল্লির আদালত!
Popular Categories


