অসমের হাইলাকান্দি জেলায় ১৬ বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তিন তরুণকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে একজন ১৭ বছরের নাবালক। অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবিতে পুরো বারাক উপত্যকা জুড়ে প্রতিবাদে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শনিবার রাতে কাটলিছেরা থানা এলাকার আলৈছড়ায় জাতীয় সড়কের পাশের একটি বাড়ি থেকে ওই নাবালিকার বিকৃত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার সময় পরিজনরা কাছেই এক আত্মীয়ের বাড়িতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সামান্য পারিবারিক বচসার পর রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ একাই বাড়ি ফিরে আসে কিশোরীটি। ঘণ্টাখানেক পর বাড়ির লোকেরা ফিরে এসে ঘরে তাকে বীভৎস অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নির্যাতিতার শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং ধারালো ও ভোঁতা বস্তু দিয়ে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। ধৃতদের মধ্যে একজনের সঙ্গে ওই নাবালিকার আগের থেকে পরিচিতি ও সম্পর্ক ছিল। অভিযুক্তরা জানত যে ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ থাকবে না। পুলিশ এই ঘটনার দ্রুত তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। ১৭ বছর বয়সি মূল অভিযুক্তের নির্মমতার কথা মাথায় রেখে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করার আর্জি জানানো হয়েছে আদালতে।
গ্রেফতার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পকসো (POCSO) আইনের একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা অসম-মিজোরাম সংযোগকারী ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

