ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায় পড়েছে ইজরায়েল। সমুদ্রের জলে তৈরি হওয়া এই ক্ষুদ্র শৈবালের আস্তরণ দেশের একাধিক সমুদ্রজল শোধনাগারের কাজ ব্যাহত করেছে। এর জেরে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় ইজরায়েলের পাঁচটি বড় ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট। ফলে দেশের পানীয় জলের জোগান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।ইজরায়েলের জাতীয় জল সংস্থা মেকোরট জানিয়েছে, রবিবার দেশের উপকূলে থাকা ছ’টি ডেসালিনেশন প্ল্যান্টের মধ্যে পাঁচটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে কয়েকটি প্ল্যান্টে আংশিকভাবে কাজ শুরু হলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র একটি কেন্দ্র পুরো ক্ষমতায় জল উৎপাদন করতে পেরেছে। মেকোরটের মুখপাত্র লিওর গুটম্যান জানিয়েছেন, ইজরায়েলে এমন ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি। তবে এখনও পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পানীয় জলের জোগানে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়নি।ইজরায়েলের মতো শুষ্ক দেশে পানীয় জলের জন্য ডেসালিনেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে বড় নদী নেই, বৃষ্টিপাতও তুলনামূলক কম। ফলে সমুদ্রের নোনা জলকে পরিশোধন করে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার প্রযুক্তির উপর দেশটি অনেকটাই নির্ভরশীল। বর্তমানে ইজরায়েলের পানীয় জলের অন্তত ৬৫ শতাংশ আসে ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট থেকে।বিজ্ঞানীদের মতে, উপকূলজুড়ে কয়েক দশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল মাইক্রোঅ্যালগি। সূর্যের আলো, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং জলে থাকা পুষ্টি পেয়ে এই ক্ষুদ্র জীবগুলি খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে। গবেষকদের ধারণা, এই অ্যালগির উৎপত্তি নীল নদের বদ্বীপ এলাকায়। পরে সমুদ্রের স্রোতের সঙ্গে তা ইজরায়েলের উপকূলের দিকে চলে আসে।ডেসালিনেশন প্ল্যান্টগুলিতে মূলত ‘রিভার্স অসমোসিস’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে সমুদ্রের জল বিশেষ ঝিল্লির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করে লবণ, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু জলে অ্যালগির পরিমাণ বেড়ে গেলে সেই ঝিল্লি দ্রুত নোংরা হয়ে যেতে পারে। ফলে গোটা পরিশোধন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।পরিস্থিতি সামাল দিতে ইজরায়েল সরকার গ্যালিলি সাগর থেকে অতিরিক্ত জল সংগ্রহ, ভূগর্ভস্থ কূপ চালু করা এবং জাতীয় জলভাণ্ডার ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। কয়েকটি এলাকায় বাগানে জল দেওয়া ও সুইমিং পুলে জল ভরার উপর সাময়িক বিধিনিষেধও জারি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা।বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, প্রবল ঝড় এবং জলে সার বা দূষিত পদার্থ মিশে যাওয়ার মতো কারণে অ্যালগির দ্রুত বিস্তার ঘটতে পারে। ফলে একটি নির্দিষ্ট প্রযুক্তির উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল জল সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা নিরাপদ, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, শুধু শৈবাল নয়, তেল ছড়িয়ে পড়া, সাইবার হামলা বা সামরিক সংঘাতের মতো ঘটনাতেও ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট দীর্ঘ সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই ভবিষ্যতে জল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।
ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা
Popular Categories


