নিজের চুরি যাওয়া ই-রিকশা উদ্ধার করে অভিযুক্ত চোরকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে গিয়ে উল্টে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দিল্লির যাদব নগরের বাসিন্দা তথা ই-রিকশাচালক সমীর। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কাঁদতে কাঁদতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি।
জীবন পার্ক এলাকায় ই-রিকশা চালিয়ে মায়ের ভরণপোষণ করেন সমীর। তাঁর অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁর ই-রিকশা চুরি হয়ে যায়। এরপর নিজেই খোঁজ চালিয়ে অভিযুক্ত চোরকে ধরে ফেলেন তিনি। চুরির অভিযোগ জানাতে এবং রিকশাটি উদ্ধারের আশায় ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যান সমীর।
কিন্তু থানায় যাওয়ার পর তাঁর অভিযোগ নথিভুক্ত করার পরিবর্তে পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁকেই মারধর করেন বলে দাবি তাঁর। এমনকি মারধরের জেরে তাঁর একটি আঙুল ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভিডিওতে সমীরকে বলতে শোনা যায়, “আমার রিকশা চুরি হয়ে গিয়েছিল। আমি কোনওভাবে চোরকে ধরে ফেলি এবং অভিযোগ জানাতে তাকে থানায় নিয়ে যাই। কিন্তু পুলিশ আমাকেই মারধর করে এবং আমার আঙুল ভেঙে দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি পুলিশকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম যে আমি কোনও অপরাধ করিনি, কিন্তু বর্তমান সময়ে পুলিশের কাছে যাওয়াটাই বৃথা।”
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সমীরকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, “যদি আপনাদের কোনও সমস্যা বা অভিযোগ থাকে, তবে পুলিশের কাছে যাবেন না; কারণ তারা নির্দোষ মানুষকেও মারধর করে।”
নিজের অসহায়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সমীর বলেন, “আমার পাশে কেবল আমার মা-ই আছেন। তিনি যদি জানতে পারেন যে পুলিশ আমাকে মারধর করেছে, তবে তিনি ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়বেন।”
অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তিনি আরও বলেন, “পুলিশের কাছে না গেলেই ভালো হতো। অন্তত তাহলে আমি নিরাপদ থাকতাম।” সমীরের এই অভিযোগ ঘিরে পুলিশি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিচয় এবং ঘটনার বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও স্পষ্ট নয়।


