Tuesday, September 15, 2026
29 C
Kolkata

সুইডেনে দক্ষিণপন্থী জোটকে পরাস্ত করে সরকার গঠনের পথে বামপন্থীরা

সুইডেনের সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ছবি উঠে এসেছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত ৯৪ শতাংশেরও বেশি ব্যালট গণনা হলেও কোনও পক্ষের জয় নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক ফলাফলে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের নেত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী জোট সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

সুইডেনের নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বামপন্থী জোট ১৭৬টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমান রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটের দখলে রয়েছে ১৭৩টি আসন। ভোটের ব্যবধান প্রায় ২০ হাজার। তবে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগে এই ব্যবধান বদলে যেতে পারে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন চার-দলীয় রক্ষণশীল জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সরকার পরিচালনায় তিনি কট্টর-ডানপন্থী ‘সুইডেন ডেমোক্র্যাটস’ (SD)-এর সমর্থন পেয়ে আসছেন। দলটির শিকড় নব্য-নাৎসি মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত। ক্রিস্টারসন আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ক্ষমতায় টিকে থাকলে এসডিকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেবেন।

সোমবার ভোরে সমর্থকদের উদ্দেশে ক্রিস্টারসন বলেন, পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর কথায়, “ভোটাররা তাঁদের রায় দিয়েছেন, কিন্তু আমরা এখনও চূড়ান্ত ফলাফল পাইনি। আগামী বছরগুলোতে কোন সরকার সুইডেনের নেতৃত্ব দেবে, তা এখনও একটি অমীমাংসিত বিষয়।”

অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের নেত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনও সমর্থকদের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, বর্তমান ফলাফল অপরিবর্তিত থাকলে সুইডেন একটি নতুন সরকার পেতে চলেছে।

সুইডেনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ‘ম্যান্ডেট ডিস্ট্রিবিউশন’ পদ্ধতিতে পার্লামেন্ট বা রিকসদাগের আসন বণ্টন করা হয়। কোনও দলকে পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য অন্তত ৪ শতাংশ ভোট পেতে হয়।

চূড়ান্ত ফলাফলের আগে বুধবার পর্যন্ত ভোট গণনা চলার সম্ভাবনা রয়েছে। দেরিতে জমা পড়া আগাম ভোট এবং নির্বাচনের দিনের আগে দেশে না পৌঁছনো প্রবাসী ভোটারদের ব্যালটও গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফলে কোন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

সুইডেনের রাজনীতিতে দুটি প্রধান জোটের উপস্থিতি রয়েছে। উভয় জোটেই একাধিক দল থাকায় জোট সরকার বা সংখ্যালঘু সরকার গঠনের ঘটনা সেখানে অস্বাভাবিক নয়।

প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস এবং কট্টর-ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস—দুই দলেরই জনসমর্থন কমেছে।

সোমবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস প্রায় ২৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এই ফলাফল কার্যকর হলে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দলটির সবচেয়ে খারাপ ফলাফল হতে পারে। অন্যদিকে, ২০১০ সালে রিকসদাগে প্রবেশের পর এই প্রথম এসডির ভোটশেয়ার কমার ইঙ্গিত মিলেছে।

তবে বামপন্থী জোটের শরিক লেফট পার্টি, গ্রিনস এবং সেন্টার পার্টি জনসমর্থন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে।

এ বারের নির্বাচনী প্রচারে জাতীয় নিরাপত্তা, গ্যাং-জনিত অপরাধ এবং জনকল্যাণমূলক খাতে সরকারি ব্যয়ের মতো বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অভিবাসন ও সহিংস অপরাধকে কেন্দ্র করে প্রচার চালিয়ে ২০২২ সালের নির্বাচনে সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছিল।

রবিবার ভোট দেওয়ার পর অ্যান্ডারসন ভোটারদের সামনে দুটি রাজনৈতিক বিকল্প তুলে ধরেন—এসডির পূর্ণ আধিপত্যে সরকার, নাকি তাঁর নেতৃত্বে সহযোগিতার নতুন মনোভাব নিয়ে পরিচালিত সরকার।

অন্যদিকে, ক্রিস্টারসন নিজের নির্বাচনী এলাকা স্ট্র্যাংনাসে ভোট দেওয়ার পর বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট যাতে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি চালিয়ে যেতে পারে, সে বিষয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে।

ভোটার উপস্থিতির হারও কমেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তা প্রায় ৮০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় চার শতাংশ কম।

Hot this week

স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে BRICS, গাজা থেকে সাধারণ মানুষদের উচ্ছেদে কড়া আপত্তি!

গাজায় চলতে থাকা হিংসা, ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে...

‘বিশ্বের সবচেয়ে স্বচ্ছ ভারতের নির্বাচন প্রক্রিয়া!’ দাবি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের

ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা কতটা নিয়ম মেনে এবং স্বচ্ছভাবে পরিচালিত...

২০ জনের মধ্যে ১৭ জন NCPI সাংসদ যোগ দিতে চলেছেন বিজেপিতে! ৩ তিনজন মুসলিম সাংসদ থাকছেন NDA-তে

তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া ২০ জন সাংসদকে ঘিরে...

‘৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষাশী’, ব্রিকসের নৈশভোজে নিরামিষ মেনু নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা রাহুলের

ভারতে খাবারের পছন্দ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন নয়। তবে...

Topics

স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে BRICS, গাজা থেকে সাধারণ মানুষদের উচ্ছেদে কড়া আপত্তি!

গাজায় চলতে থাকা হিংসা, ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে...

বদলাবে লেনিন সরণির নাম, তালিকায় মেয়ো রোডও!

রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতার একাধিক রাস্তার নাম পরিবর্তন হয়েছে।...

২০২৯-এর আগেই বিজেপি শাসিত সব রাজ্যে UCC! বড় ঘোষণা অমিত শাহের

বিজেপি শাসিত সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অভিন্ন দেওয়ানি...

Related Articles

Popular Categories