পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে গুরুতর আহত তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান বিজনবন্ধু বাগের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কয়েক দিন আগে তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। রবিবার তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
বিজনবন্ধু বাগ পটাশপুর-২ ব্লকের সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ছিলেন। পরিবার ও তৃণমূলের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কয়েক জন ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে আসে। এরপর তাঁকে জোর করে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে একটি স্থানীয় কাঠের মিলে তাঁকে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। ঘটনায় দু’জনকে আটক করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আহত বিজনবন্ধুকে প্রথমে এগরা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসার পর তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার কথা।
ঘটনার পিছনে বিজেপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেতা অখিল গিরি। তাঁর দাবি, এটি রাজনৈতিক কারণে ঘটানো হয়েছে। পাশাপাশি, আর্থিক লেনদেন বা অন্য কোনও ব্যক্তিগত বিবাদকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে—এমন কথাও তিনি নাকচ করেছেন। তবে কার নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, ঘটনায় কোনও বিজেপি কর্মী জড়িত থাকার প্রমাণ নেই। নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিজেপি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বিজনবন্ধু বাগের উপর হামলার প্রকৃত কারণ কী ছিল এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। এই মৃত্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যেই পটাশপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।


