মালদহে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সম্পর্কে কয়েকটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তাঁর একাধিক উত্তর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষামহলেও তৈরি হয়েছে চর্চা।
ঘটনাটি পুরাতন মালদহের কাদিরপুর কিরণময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বলে জানা গিয়েছে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তনয় মিশ্র। দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। চলতি শিক্ষক দিবসে মালদহ জেলা থেকে রাজ্য সরকারের দেওয়া ‘বিদ্যাসাগর পুরস্কার’ও তিনি পেয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে স্কুলে গিয়ে তাঁর কাছে বিদ্যাসাগর সম্পর্কে কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়। ‘সহজপাঠ’-এর লেখক কে, বিদ্যাসাগরের পুরো নাম কী এবং তিনি কোথায় জন্মেছিলেন—এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর তিনি ঠিকভাবে দিতে পারেননি। বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান হিসেবে তিনি বর্ধমানের নাম বলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এর পর তাঁকে ব্ল্যাকবোর্ডে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নাম লিখতে বলা হয়। সেই লেখাতেও বানান ভুল দেখা যায় বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি পরিচিত ছড়া এবং সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের একটি কবিতা নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সেই প্রশ্নগুলির উত্তর নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন শিক্ষক এবং বিশেষ করে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে এমন সাধারণ সাহিত্য ও ইতিহাসের তথ্য জানা কতটা জরুরি। একই সঙ্গে, বিদ্যাসাগরের নামে দেওয়া সম্মান ওই শিক্ষককে দেওয়া ঠিক হয়েছে কি না, তা নিয়েও নানা মত সামনে এসেছে।
তবে পুরো ঘটনার অন্য দিকও রয়েছে। তনয় মিশ্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ সম্পাদনা করে ছড়ানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ব্ল্যাকবোর্ডে লেখার সময় প্রথমে ভুল হলেও তিনি তা সংশোধন করেছিলেন। স্কুলে পরিস্থিতির চাপের কারণে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরও ঠিকমতো দিতে পারেননি বলে তাঁর বক্তব্য। তাঁর কথায়, এই বিষয়গুলি তাঁর অজানা নয়।
ঘটনাটি নিয়ে জেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা দফতরের কর্তাদের কাছেও খবর পৌঁছেছে। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক মলয় মণ্ডল এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) সপ্তর্ষি নাগ জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন এবং পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


