Wednesday, September 23, 2026
28 C
Kolkata

রাজ্যে ৯৩৩টি পড়ুয়াশূন্য স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন, দু’মাসে ৪১০০ থেকে সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিতর্ক!

রাজ্যের বহু স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে কোনও পড়ুয়া ভর্তি না হওয়ায় এবার সেই স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে শিক্ষা দফতর। স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, রাজ্যে এমন ৯৩৩টি স্কুল রয়েছে, যেখানে গত কয়েক বছর ধরে কোনও ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়নি। এই স্কুলগুলির পড়ে থাকা জমি ও ভবন কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা খতিয়ে দেখতে জেলাশাসকদের নেতৃত্বে কমিটি তৈরি করা হবে।

মন্ত্রী জানান, কিছু স্কুলে প্রায় দুই দশক ধরে নতুন করে কোনও পড়ুয়া ভর্তি হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়ায় স্কুলের ভবন, জমি ও অন্যান্য সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। এই পরিকাঠামো ফেলে না রেখে অন্য সরকারি কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রাণিসম্পদ সংক্রান্ত পরিষেবা বা সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় অন্য কোনও কাজে স্কুলগুলিকে ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হবে।

তবে এই স্কুলগুলিকে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিয়ে চালানোর কোনও পরিকল্পনা এখনও নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। স্কুলগুলিকে পিপিপি মডেলে পরিচালনার জন্য কোনও নির্দিষ্ট তালিকাও তৈরি হয়নি বলে তাঁর বক্তব্য।

এদিকে পড়ুয়াশূন্য স্কুলের সংখ্যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। ইউডাইস প্লাসের আগের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে এমন স্কুলের সংখ্যা ৪ হাজারেরও বেশি। সেই তুলনায় বর্তমানে সরকারের দেওয়া ৯৩৩-এর হিসাব অনেকটাই কম। সরকারি এক আধিকারিকের ব্যাখ্যা, আগের তালিকায় বেশ কিছু বেসরকারি স্কুলও ছিল। তাদের তথ্য জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে পড়ুয়াশূন্য হিসেবে দেখানো হয়েছিল। যদিও সংখ্যার এই বড় পরিবর্তন নিয়ে শিক্ষা দফতরের তরফে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষাক্ষেত্রের সংগঠনের প্রতিনিধিরাও। তাঁদের বক্তব্য, অনেক স্কুল স্থানীয় মানুষের জমি ও আর্থিক সাহায্যে তৈরি হয়েছিল। তাই সেগুলি বন্ধ করার আগে আশপাশের পরিস্থিতি এবং স্কুলগুলির পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা দরকার। প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে পারলে অনেক স্কুলেই ফের ছাত্রছাত্রী আসতে পারে বলেও মত তাঁদের।

শুধু সম্পূর্ণ পড়ুয়াশূন্য স্কুল নয়, ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কম এমন প্রতিষ্ঠান নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, প্রত্যন্ত বা কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পড়ুয়া কম থাকলেও স্কুল বন্ধ করা হবে না। আশপাশে অন্য স্কুল না থাকলেও প্রতিষ্ঠান চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে একই এলাকায় একাধিক স্কুল থাকা সত্ত্বেও কোনও স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা খুব কম হলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা করা হতে পারে।

শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০২৭ সালের মধ্যে সব স্কুলেই শিক্ষক থাকার ব্যবস্থা করা হবে। তবে প্রতিটি স্কুলে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকবেন কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। চাকরিহারা শিক্ষকদের পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নতুন নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষক ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Hot this week

LIC-এর ২,৬৮৪ কোটি টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে দায়ের হল এফআইআর

ভারতীয় জীবন বিমা নিগম বা LIC-এর বিনিয়োগ ঘিরে আর্থিক...

রামমন্দিরে প্রণামি চুরির ১০৫ কাণ্ড! সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল চাঞ্চল্যকর তথ্য

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামির সামগ্রী চুরির ঘটনায় তদন্ত...

Topics

রামমন্দিরে প্রণামি চুরির ১০৫ কাণ্ড! সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল চাঞ্চল্যকর তথ্য

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামির সামগ্রী চুরির ঘটনায় তদন্ত...

Related Articles

Popular Categories