বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রশ্নে সিপিআই(এম) শীর্ষে। কিন্তু সমীক্ষা ভোটের পূর্বাভাস নয় — মাঠ এখনও বহুমুখী।
NBTV ও Banglakal Media-র যৌথ সমীক্ষা
মুর্শিদাবাদ · ভোট ৬ অক্টোবর · গণনা ৯ অক্টোবর
মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। আসনটি খালি হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবির নওদা ধরে রাখার সিদ্ধান্তে। মে মাসের বিধানসভা ভোটে তিনি রেজিনগর ও নওদা — দুই আসন থেকেই জিতেছিলেন। রেজিনগরে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ১,২৩,৫৩৬, ভোটশতাংশ ৫১.৯৮, বিজেপির ওপর ব্যবধান ৫৮,৮৭৬। পাঁচ মাস পর সেই আসনেই তাঁর পুত্র গোলাম নবি আজাদ (রবিন) এজেইউপির প্রার্থী। বিজেপি, সিপিআই(এম), কংগ্রেস এবং তৃণমূলের দুই শিবির আলাদা প্রার্থী দিয়েছে। আরএসপি প্রতীক-বিতর্কের জেরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে NBTV ও Banglakal Media যৌথভাবে একটি স্থানীয় জনমত-আদানপ্রদান চালিয়েছে। ২,৫০৯টি প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে তৈরি এই চিত্র ভোটের পূর্বাভাস নয়। প্রশ্নটি ছিল সরাসরি — বর্তমানে বাংলায় কোন দল বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছে। উত্তরে সিপিআই(এম) ৩৭.৭ শতাংশ, কংগ্রেস ২৮.৬, এজেইউপি ২০, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল শিবির ১১.৪ এবং ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল প্রায় ১.৮ শতাংশ। অর্থাৎ বিজেপি-বিরোধী ধারণা একটি দলের মধ্যে আটকে নেই। সেটাই এই উপনির্বাচনের মূল রাজনৈতিক তথ্য।
১. কেন এই উপনির্বাচন
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ছিল হুমায়ুন কবিরের ব্যক্তিগত জয়ের আসন। ভারতভোটস ও সমকালীন ফলতালিকা অনুযায়ী বৈধ ভোটের হিসাবে এজেইউপি ৫১.৯৮ শতাংশ, বিজেপি ২৭.২১ (বাপন ঘোষ, ৬৪,৬৬০) এবং তৃণমূল ১৭.৫৫ (আতাউর রহমান, ৪১,৭১৮) পায়। কংগ্রেসের জিল্লু শেখ পান ৪,১০১ ভোট, ১.৭৩ শতাংশ। নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন ২,৫৬,২৬৭, ভোট পড়ে ২,৩৭,৬৬১, ভোটদান ৯২.৭ শতাংশ। নোটা ১,৬৩৪।
একই নেতা নওদাও জেতেন। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী দুই আসনে জিতলে একটি ছাড়তে হয়। কবির নওদা রাখেন, রেজিনগর ছাড়েন। নির্বাচন কমিশন ৭ সেপ্টেম্বর সূচি ঘোষণা করে: মনোনয়নের শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর, বাছাই ১৭ সেপ্টেম্বর, প্রত্যাহার ১৯ সেপ্টেম্বর, ভোট ৬ অক্টোবর, গণনা ৯ অক্টোবর। একই দিনে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামেও উপনির্বাচন — সেখানে শূন্যপদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, যিনি ভবানীপুর রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়েছেন। দুই আসনই তাই ক্ষমতাসীন বিজেপির জন্য পরীক্ষা, কিন্তু রেজিনগরের অঙ্ক আলাদা: এখানে মে মাসের জয়ী দল এজেইউপি, বিজেপি দ্বিতীয়।
তুলনার জন্য ২০২১-এর চিত্র দরকার। সেবার তৃণমূলের রবিউল আলম চৌধুরী ১,১৮,৪৯৪ ভোটে জিতেন, বিজেপির অরবিন্দ বিশ্বাস পান ৫০,২২৬, ব্যবধান ৬৮,২৬৮। পাঁচ বছরে আসনটি তৃণমূল থেকে এজেইউপিতে ঘুরেছে, আর রবিউল নিজে এবার মমতা-শিবিরের প্রার্থী। স্থানীয় স্মৃতিতে তাই দুই ধারা একসঙ্গে আছে — কবিরের সাম্প্রতিক জয়, এবং তৃণমূলের পুরোনো সাংগঠনিক ছাপ।
২. সমীক্ষা: কী জিজ্ঞেস করা হয়েছে, কী জিজ্ঞেস করা হয়নি
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিগত কথা আগে বলা দরকার। প্রশ্নটি ছিল, “বর্তমানে বাংলায় কোন দল বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছে?” এটা পছন্দের দল, সম্ভাব্য ভোট, বা প্রার্থী-পরিচিতির প্রশ্ন নয়। এটা একটি উপলব্ধি বা perception-এর প্রশ্ন। একজন উত্তরদাতা সিপিআই(এম)-এর নাম বলতে পারেন রাজ্যজুড়ে বিজেপি-বিরোধী অবস্থানের জন্য, অথচ ভোটের দিন রেজিনগরে এজেইউপি বা কংগ্রেসকে বেছে নিতে পারেন। উল্টোটাও সম্ভব।
তথ্যসংগ্রহ হয়েছে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে। মোট প্রতিক্রিয়া ২,৫০৯। শতাংশগুলো এই মোটের ওপর। আনুমানিক সংখ্যায় সিপিআই(এম) প্রায় ৯৪৬, কংগ্রেস প্রায় ৭১৮, এজেইউপি প্রায় ৫০২, মমতা-তৃণমূল প্রায় ২৮৬ এবং ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল প্রায় ৪৫। যোগফল রাউন্ডিংয়ের কারণে ১০০-এর সামান্য নিচে — ৯৯.৫ শতাংশ।
যা এই সমীক্ষায় প্রকাশিত হয়নি, সেটাও পাঠকের জানা দরকার। নমুনা কীভাবে বাছাই হয়েছে — বুথভিত্তিক এলোমেলো নাকি সুবিধা-নমুনা — তা আলাদা করে বলা হয়নি। বয়স, লিঙ্গ, এলাকা বা ধর্মভিত্তিক ভাঙন নেই। ওজনকরণ (weighting) বা ত্রুটির সীমা (margin of error) প্রকাশিত হয়নি। ২,৫০৯ একটি স্থানীয় আদানপ্রদানের জন্য বড় সংখ্যা, কিন্তু এলোমেলো নমুনা না হলে সংখ্যাটা নিজে থেকে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে না। তাই এই প্রতিবেদন ফলকে “ভোটশতাংশ” বলছে না। বলছে, ভোটের পাঁচ দিন আগে বিজেপি-বিরোধী রাজনীতি নিয়ে মানুষের মুখের কথা কোন দিকে ঝুঁকছে।
৩. ফল, এক নজরে
| দল | উত্তর | আনুমানিক সংখ্যা | পাঠ |
| সিপিআই(এম) | ৩৭.৭% | প্রায় ৯৪৬ | শীর্ষে; বিজেপি-বিরোধী ধারণায় এগিয়ে |
| কংগ্রেস | ২৮.৬% | প্রায় ৭১৮ | দ্বিতীয়; আলাদা প্রার্থী মাঠে |
| এজেইউপি | ২০.০% | প্রায় ৫০২ | আসনধারী দল, কিন্তু এই প্রশ্নে তৃতীয় |
| তৃণমূল (মমতা শিবির) | ১১.৪% | প্রায় ২৮৬ | ২০২১-এর বিজয়ী দল এখন অনেক পিছে |
| ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল | প্রায় ১.৮% | প্রায় ৪৫ | বিভক্ত তৃণমূলের অপর শিবির |
উৎস: NBTV ও Banglakal Media যৌথ সমীক্ষা, ২,৫০৯টি প্রতিক্রিয়া। আনুমানিক সংখ্যা শতাংশ থেকে হিসাব। যোগফল রাউন্ডিংয়ে ৯৯.৫ শতাংশ।
৪. রাজনৈতিক পাঠ: শীর্ষে সিপিআই(এম), কিন্তু আসনটি তাঁদের ছিল না
৩৭.৭ শতাংশ উত্তরদাতা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছে বলে সিপিআই(এম)-এর নাম বলেছেন। মে মাসের ফলতালিকায় এই আসনে সিপিআই(এম) প্রথম সারিতে ছিল না। কংগ্রেসই চতুর্থ হয়েছিল, ১.৭৩ শতাংশ ভোটে। তার মানে এই সংখ্যা পুরোনো ভোটভিত্তির পুনরাবৃত্তি নয়। এটা সাম্প্রতিক একটি ধারণা — মাঠে উপস্থিতি, সংগঠন, এবং বিজেপির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিয়ে উত্তরদাতাদের একাংশের মুখের কথা।
সিপিআই(এম) প্রার্থী দিয়েছেন অ্যাডভোকেট সঈদ আসাদ আলিকে। বামফ্রন্টের শরিক আরএসপি আলাদা প্রার্থী বিকাশচন্দ্র মিশ্রকে নামিয়েছিল। কমিশন কোদাল-বেলচা না দিয়ে টর্চলাইট বা বালতি প্রতীকের কথা জানানোর পর আরএসপি ১৯ সেপ্টেম্বরের আশপাশে প্রার্থী প্রত্যাহার করে। বাম শিবিরের ভিতরকার টানাপড়েন তাই প্রকাশ্যে এসেছে, যদিও প্রত্যাহারে মাঠ কিছুটা সরল হয়েছে। সিপিআই(এম) এখন বাম দিকের একক চিহ্নিত প্রার্থী। সমীক্ষায় তাঁদের শীর্ষ অবস্থান এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে মেলে, কিন্তু ভোটের অঙ্কে রূপান্তরের প্রমাণ এখনও নেই।
কংগ্রেস ২৮.৬ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয়। প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি। মে মাসে কংগ্রেস এই আসনে প্রায় মুছে গিয়েছিল। সমীক্ষায় এই উত্থান তাই ভোটের স্মৃতি নয়, বিজেপি-বিরোধী বিকল্প হিসেবে দলটির নাম এখনও মুখে আসা। সিপিআই(এম) ও কংগ্রেস মিলিয়ে এই প্রশ্নের ৬৬.৩ শতাংশ। দুই দল আলাদা প্রার্থী দিয়েছে। ধারণা যোগ হলেও ভোট যোগ হবে কি না, সেটা ৬ অক্টোবরের প্রশ্ন।
৫. এজেইউপি তৃতীয় কেন, যদিও আসন তাঁদের
এজেইউপি ২০ শতাংশ। মে মাসে দলটির প্রধান এই আসনে অর্ধেকের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। ব্যবধানটা ব্যাখ্যার দাবি রাখে, এবং ব্যাখ্যাটি সমীক্ষার বিপক্ষে যায় না। প্রশ্ন ছিল “কোন দল বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছে”, “কাকে ভোট দেবেন” নয়। রেজিনগরের অনেক ভোটার কবিরকে স্থানীয় বিজয়ী হিসেবে দেখতে পারেন, অথচ রাজ্যজুড়ে বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে সিপিআই(এম) বা কংগ্রেসের নাম বলতে পারেন।
এজেইউপির প্রার্থী গোলাম নবি আজাদ, পরিচিত নাম রবিন, হুমায়ুন কবিরের পুত্র। দলের পরীক্ষা এখানে সাংগঠনিক: কবিরের ব্যক্তিগত ভোট ছেলের নামে স্থানান্তর হয় কি না। ৫৮,৮৭৬ ভোটের ব্যবধান একটি বড় ব্যবধান। কিন্তু বহুমুখী লড়াইয়ে সেই ব্যবধান তখনই কাজে লাগে, যখন মে মাসের জোটবদ্ধ সমর্থন ভাঙে না। সমীক্ষা বলছে, বিজেপি-বিরোধী কথায় এজেইউপি আর একচেটিয়া নয়।
৬. তৃণমূলের ভাঙন সংখ্যায়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল শিবির ১১.৪, ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল প্রায় ১.৮। দুই শিবির মিলিয়েও এই প্রশ্নে ১৩ শতাংশের ঘরে। মে মাসে একক তৃণমূল পেয়েছিল ১৭.৫৫ শতাংশ ভোট। ধারণা ও ভোট এক জিনিস নয়, তবু দিকটা স্পষ্ট: তৃণমূল এই আসনে আর প্রধান বিজেপি-বিরোধী চিহ্ন নয়।
মাঠের ঘটনা এই সংখ্যার সঙ্গে যায়। মমতা-শিবির প্রার্থী করেছে রবিউল আলম চৌধুরীকে — ২০২১-এর বিধায়ক। ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি প্রথমে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা বলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফিরে আসেন। দলীয় সূত্রে প্রতীক-বিরোধ ও সাংগঠনিক চাপের কথা উঠেছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির প্রার্থী দিয়েছে শেখ সফিউদ্দিন জামানকে। দুই তৃণমূল, দুই প্রতীক, এক আসন। সমীক্ষায় ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূলের ১.৮ শতাংশ বলছে, দ্বিতীয় শিবিরের নাম মানুষের মুখে প্রায় আসেই না — অন্তত এই প্রশ্নের উত্তরে।
৭. মাঠের প্রার্থীচিত্র
প্রত্যাহারের পর রেজিনগর কার্যত পাঁচ-ছয় কোণের লড়াই। আরএসপি সরে যাওয়ায় বামফ্রন্টের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ভোট-বিভাজনে আর বড় ভূমিকা রাখবে না।
| দল / শিবির | প্রার্থী | টিকা |
| এজেইউপি | গোলাম নবি আজাদ (রবিন) | হুমায়ুন কবিরের পুত্র; আসনধারী দল |
| বিজেপি | শাখারভ সরকার | প্রাক্তন জেলা সভাপতি, রাজ্য কমিটি |
| সিপিআই(এম) | সঈদ আসাদ আলি | অ্যাডভোকেট; বামফ্রন্ট মনোনীত |
| কংগ্রেস | মো. আব্দুল্লাহিল কাফি | আলাদা প্রার্থী, বামের সঙ্গে সিট ভাগাভাগি নয় |
| তৃণমূল (মমতা) | রবিউল আলম চৌধুরী | ২০২১-এর বিধায়ক; প্রত্যাহারের পর ফিরে এসেছেন |
| তৃণমূল (ঋতব্রত) | শেখ সফিউদ্দিন জামান | বিভক্ত দলের অপর শিবির |
| আরএসপি | বিকাশচন্দ্র মিশ্র | প্রতীক-বিতর্কে মনোনয়ন প্রত্যাহার |
প্রার্থীনামের বানান বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সামান্য আলাদা। এখানে প্রচলিত বাংলা রূপ ব্যবহার করা হয়েছে।
৮. মে ২০২৬-এর ভিত্তিরেখা
উপনির্বাচন পড়তে গেলে মে মাসের সংখ্যা ছাড়া চলে না। রেজিনগর সাধারণ আসন, বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের অংশ, মুর্শিদাবাদ জেলা।
| প্রার্থী (২০২৬) | দল | ভোট | শতাংশ |
| হুমায়ুন কবির | এজেইউপি | ১,২৩,৫৩৬ | ৫১.৯৮ |
| বাপন ঘোষ | বিজেপি | ৬৪,৬৬০ | ২৭.২১ |
| আতাউর রহমান | তৃণমূল | ৪১,৭১৮ | ১৭.৫৫ |
| জিল্লু শেখ | কংগ্রেস | ৪,১০১ | ১.৭৩ |
| নোটা | — | ১,৬৩৪ | — |
নথিভুক্ত ভোটার ২,৫৬,২৬৭। ভোটদান ৯২.৭ শতাংশ। ব্যবধান ৫৮,৮৭৬ (বৈধ ভোটের ২৪.৮ শতাংশ)। সূত্র: ভারতভোটস ও সমকালীন ফলতালিকা।
এই ভিত্তিরেখা থেকে তিনটি কাজের কথা বেরোয়। এক, বিজেপির মে মাসের মেঝে প্রায় ৬৫ হাজার ভোট। দুই, তৃণমূলের মেঝে প্রায় ৪২ হাজার, কিন্তু সেই ভোট এবার দুই শিবিরে ভাগ হতে পারে। তিন, কংগ্রেস ও বামের স্থানীয় ভোট মে মাসে নগণ্য ছিল — সমীক্ষায় তাঁদের নাম এগিয়ে থাকলেও সেই নাম ভোটে না উঠলে পুরোনো অঙ্কই থেকে যাবে।
৯. বিভক্ত প্রতিপক্ষ, বিজেপির সুযোগ
ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্টে জেতেন যিনি এগিয়ে। বিজেপি-বিরোধী ধারণা ৮০ শতাংশের ওপর হলেও ভোট পাঁচ দিকে ভাগ হলে দ্বিতীয় স্থানের দল জিততে পারে। রেজিনগরে সেই অঙ্ক খোলা আছে।
বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার, রাজ্য সম্পাদক শাখার সদস্য ও মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন জেলা সভাপতি। মে মাসে দলের প্রার্থী ছিলেন বাপন ঘোষ। প্রার্থী বদল নিজে থেকে ভোট কমায় বা বাড়ায় না, কিন্তু প্রচারের মুখ বদলায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপনির্বাচনের আগে বলেছেন, বিরোধীরা জামানত হারাবেন এবং রেজিনগরে বিজেপি স্বস্তিতে জিতবে। এটা প্রচারের কথা, ফল নয়। তবে বিভক্ত মাঠ তাঁর যুক্তিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য করেছে।
উল্টো দিকের যুক্তিও সমান জোরালো। মে মাসে এজেইউপি একাই ৫২ শতাংশ পেয়েছিল। রবিন যদি সেই সমর্থনের বড় অংশ ধরে রাখেন, বিভাজন সত্ত্বেও আসন এজেইউপির কাছে থাকতে পারে। সিপিআই(এম) বা কংগ্রেস জিততে গেলে শুধু ধারণায় এগিয়ে থাকলে চলবে না — মে মাসে যাঁরা কবিরকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের একাংশকে সরাতে হবে। সমীক্ষা সেই সরানোর প্রমাণ দেয় না। দেয় শুধু এটুকু যে, বিজেপি-বিরোধী কথোপকথনে বাম ও কংগ্রেসের নাম আবার ফিরেছে।
১০. ৬ অক্টোবর কী দেখতে হবে
- ভোটদান। মে মাসে ৯২.৭ শতাংশ পড়েছিল। উপনির্বাচনে ভোটদান কমলে কার ঘরের ভোট ঘরে থাকল, সেটা ফল ঠিক করবে।
- এজেইউপির স্থানান্তর। কবিরের ১.২৩ লক্ষ ভোটের কতটা রবিনের নামে এল।
- তৃণমূলের ভাঙন। রবিউল ও সফিউদ্দিন মিলিয়ে মে মাসের ৪২ হাজারের কাছাকাছি থাকেন, নাকি দুই শিবিরই ক্ষয়ে যায়।
- বাম-কংগ্রেসের প্রকৃত ভোট। সমীক্ষার ৩৭.৭ ও ২৮.৬ যদি বুথে না নামে, ধারণা ও ভোটের ফারাকই হবে খবর।
- বিজেপির মেঝে। ৬৫ হাজারের নিচে নামে, নাকি বিভক্ত মাঠে সেই মেঝেই জেতানোর জন্য যথেষ্ট হয়।
- প্রতীক-বিভ্রান্তি। তৃণমূলের দুই শিবির আলাদা প্রতীকে। অপরিচিত প্রতীক গ্রামীণ বুথে ভোট কাটে।
গণনা ৯ অক্টোবর। দুর্গাপূজার আগে এই ফল মুর্শিদাবাদের পরবর্তী রাজনৈতিক কথোপকথন ঠিক করবে — এজেইউপি স্থানীয় শক্তি হিসেবে টিকেছে, নাকি বিজেপি বিভক্ত প্রতিপক্ষকে কাজে লাগিয়েছে, নাকি বাম-কংগ্রেস ধারণার এগিয়ে থাকা ভোটে বদলেছে।
সম্পাদকীয় নোট
এই প্রতিবেদন NBTV ও Banglakal Media-র যৌথ সমীক্ষার ২,৫০৯টি প্রতিক্রিয়া এবং প্রকাশিত নির্বাচনী তথ্যের ওপর দাঁড়ানো। সমীক্ষা একটি উপলব্ধির চিত্র। একে আসন-পূর্বাভাস, এক্সিট পোল বা ভোটশতাংশের অনুমান হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রার্থী-তালিকা ১৯ সেপ্টেম্বরের প্রত্যাহার-পর্ব পর্যন্ত প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে। শেষ মুহূর্তের বদল হলে মাঠের চিত্র বদলাবে। ভোটের দিনের সিদ্ধান্ত, স্থানীয় ইস্যু এবং প্রচারই চূড়ান্ত ফল ঠিক করবে।
প্রকাশ: NBTV ও Banglakal Media · ১ অক্টোবর ২০২৬

