বীরভূমে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই আবহেই দুবরাজপুর ব্লকের একটি গ্রামে তৃণমূল ছেড়ে প্রায় ১৫০টি পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সিপিএমের পতাকা হাতে তুলে নিল। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।রবিবার দুবরাজপুর ব্লকের লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কয়থানপুর গ্রামে এই যোগদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সিপিএমের দাবি, যাঁরা দলে যোগ দিয়েছেন তাঁদের অধিকাংশই এতদিন তৃণমূলের সক্রিয় সমর্থক ছিলেন। অনেকেই স্থানীয় স্তরে দলের বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকা ব্যক্তিও রয়েছেন, আবার সাধারণ কর্মীরাও আছেন।সিপিএম নেতৃত্বের বক্তব্য, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ নতুন করে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন। সেই কারণেই তাঁরা বাম শিবিরে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বক্রেশ্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুপ্রিয় ভট্টাচার্য। নতুন সদস্যদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে তিনি তাঁদের স্বাগত জানান।সুপ্রিয় ভট্টাচার্যের দাবি, রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যকর রাজনৈতিক লড়াই চালানোর ক্ষমতা একমাত্র সিপিএমেরই রয়েছে বলে বহু মানুষের বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই গ্রামের বহু পরিবার বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবারগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছিল। পরে তাঁরা স্বেচ্ছায় দলে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।অন্যদিকে, নতুন সদস্যদের মধ্যেও তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষের সুর শোনা গিয়েছে। সিপিএমে যোগদানকারী রিজওয়ান শেখ বলেন, দীর্ঘদিন একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে থাকার পরও তাঁরা প্রত্যাশিত কাজ দেখতে পাননি। সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার মানসিকতা সিপিএমের মধ্যেই রয়েছে বলে তাঁর মত। তিনি আরও বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাঁরা সিপিএমকেই বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করছেন।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বীরভূমে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। জেলার বহু এলাকায় দলীয় কর্মসূচি ও সাংগঠনিক তৎপরতা আগের তুলনায় কম চোখে পড়ছে বলে আলোচনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একসঙ্গে এতগুলি পরিবারের দলবদল নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।তবে এই যোগদানের ঘটনাকে কতটা বড় রাজনৈতিক প্রভাব হিসেবে দেখা যাবে, তা আগামী দিনে স্পষ্ট হবে। আপাতত কয়থানপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
Popular Categories


